অর্থনীতির ৩০ দিন প্রতিবেদক :
বিও হিসাব মেইনটেন্যান্স ফি ও দুই স্টক এক্সচেঞ্জে সম্পাদিত বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের ওপর আরোপিত শুল্ক-কর বাবদ গত আট বছরে ২ হাজার ৬১৩ কোটি ৫৪ লাখ টাকার রাজস্ব পেয়েছে বাংলাদেশ সরকার। এর মধ্যে ২০১৭-১৮ অর্থবছরেই সরকারের কোষাগারে জমা হয়েছে ৩৯৫ কোটি ৯ লাখ টাকা। অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
গতকাল ২০১৭-১৮ অর্থবছরে সেন্ট্রাল ডিপোজিটরি বাংলাদেশ লিমিটেড (সিডিবিএল) কর্তৃক বিও হিসাব মেইনটেন্যান্স ফি থেকে অর্জিত ৫৭ কোটি ৫৩ লাখ টাকার চেক অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের হাতে তুলে দেন বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. এম খায়রুল হোসেন। এ সময় ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব মো. আসাদুল ইসলাম, বিএসইসি কমিশনার অধ্যাপক ড. স্বপন কুমার বালাসহ দুই পক্ষের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে অর্থমন্ত্রী বলেন, গত আট বছরে অনেক সংস্কারের পর পুঁজিবাজার একটি শক্ত ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে গেছে। এটি ভালোভাবেই এগিয়ে যাচ্ছে। এখন পুঁজিবাজার নিয়ে আমাদের আর দুশ্চিন্তা করতে হয় না। আশা করছি, আসন্ন জাতীয় নির্বাচন দেশের পুঁজিবাজারকে কোনোভাবে প্রভাবিত করবে না।
অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, পুঁজিবাজারের বিভিন্ন কর্মকাণ্ড থেকে সরকার রাজস্ব পেয়ে থাকে। এর মধ্যে বিও হিসাবের বার্ষিক মেইনটেন্যান্স ফির অর্থ ও দুই স্টক এক্সচেঞ্জ থেকে শুল্ক-কর বাবদ পাওয়া রাজস্ব আয় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
মন্ত্রণালয়ের সংকলিত উপাত্ত অনুসারে, ২০১০-১১ অর্থবছর থেকে সর্বশেষ অর্থবছর পর্যন্ত আট বছরে এ তিন শিরোনামভুক্ত খাত থেকে সব মিলিয়ে ২ হাজার ৬১৩ কোটি ৫৪ টাকার রাজস্ব পেয়েছে সরকার। ইতিহাসের সবচেয়ে চাঙ্গা অবস্থার সুবাদে পুঁজিবাজার থেকে সরকারের কোষাগারে সর্বোচ্চ রাজস্ব যায় ২০১০-১১ অর্থবছরে ৫৩৬ কোটি ৬৪ লাখ টাকা। এরপর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৩৯৫ কোটি ৯ লাখ টাকা জমা হলো সর্বশেষ ২০১৭-১৮ অর্থবছরে। পূর্ববর্তী ২০১৬-১৭ অর্থবছরে জমা হয়েছে তৃতীয় সর্বোচ্চ ৩৮৩ কোটি ৭৩ লাখ টাকা। ২০১২-১৩ অর্থবছরের মন্দা বাজার পরিস্থিতিতে তা সর্বনিম্ন ১৬০ কোটির ঘরে নেমে গিয়েছিল।
খাতভিত্তিক বিভাজন চার্টে দেখা যায়, প্রতি বছরই সরকার সর্বোচ্চ রাজস্ব পায় দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) সিকিউরিটিজ লেনদেন ও বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের ওপর ধার্য করা বিভিন্ন শুল্ক-কর থেকে। গত আট বছরে ডিএসই থেকে সরকার সব মিলিয়ে ১ হাজার ৯৫৬ কোটি টাকার বেশি রাজস্ব পেয়েছে। এর মধ্যে ডিএসই সরকারকে সর্বোচ্চ ৪৪৮ কোটি ২২ লাখ টাকা রাজস্ব দিয়েছিল ২০১০-১১ অর্থবছরে। ২০১২-১৩ অর্থবছরে তা ১৩০ কোটি টাকার নিচে নেমে এলেও গত দুই
অর্থবছরে তা ছিল ২৮০ কোটি টাকার বেশি।
সরকারের কোষাগারে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ অংকটি যায় সিডিবিএল থেকে বিও হিসাব মেইনটেন্যান্স ফি থেকে সরকারের জন্য কেটে রাখা অর্থ থেকে। ২০১০-১৮ সময়ে এ খাত থেকে সরকারের হাতে মোট ৪৬১ কোটি ৭৩ লাখ টাকা তুলে দিয়েছে বিএসইসি। এ খাত থেকে সরকার সর্বোচ্চ ৮১ কোটি ২১ লাখ টাকা রাজস্ব পেয়েছে ২০১৪-১৫ অর্থবছরে। বিনিয়োগকারীদের বাজারবিমুখতায় এর আগে ২০১২-১৩ অর্থবছরে তা ১৭ কোটি ৫১ লাখ টাকায় নেমে এসেছিল।
অন্যদিকে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই) কর্তৃপক্ষ শুল্ক ও কর বাবদ মোট ১৯৪ কোটি ৯৪ লাখ টাকা সংগ্রহ করে সরকারের কোষাগারে জমা করেছে। বন্দরনগরীর স্টক এক্সচেঞ্জটি গত অর্থবছরে তাদের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের শুল্ক-কর বাবদ সর্বোচ্চ ৫৭ কোটি ৩৬ লাখ টাকা সরকারকে দিয়েছে। ২০১০-১১ অর্থবছরের চাঙ্গা বাজারে তা ছিল ৩৫ কোটি ১৮ লাখ টাকা। ২০১৩-১৪ অর্থবছরে সিএসই থেকে সরকারের মোট রাজস্ব ১২ কোটি টাকার নিচে নেমে এসেছিল।












