টিফিনের ফাঁকে সেনা কল্যাণ ইন্স্যুরেন্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সাথে কিছুক্ষন…

সাক্ষাৎকারে: খোন্দকার জিল্লুর রহমান:

সম্পাদক প্রকাশক : অর্থনীতির ৩০ দিন

ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শফিক শামীম, পিএসসি (অব.),:  সেনা কল্যাণ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেডের ম্যানেজিং ডিরেক্টর/সিইও। * সেনাবাহিনীতে ২৭ বছর কমিশনপ্রাপ্ত চাকুরি করার পর, তিনি ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হিসেবে অবসর গ্রহণ করেন। ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শফিক শামীম একজন পদাতিক ব্রিগেড, এবং একটি পদাতিক ব্যাটালিয়নের নেতৃত্ব দেন। সেনাবাহিনী ও ডিভিশন সদর দফতরে গুরুত্বপূর্র্ণ স্টাফ ছাড়াও ডিফেন্স সার্ভিসেস কমান্ড অ্যান্ড স্টাফ কলেজ, মিরপুর, ঢাকা সহ সেনাবাহিনীর উল্লেখযোগ্য প্রশিক্ষণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানে প্রশিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পশ্চিম আফ্রিকায় জাতিসংঘের সিনিয়র সামরিক উপদেষ্টা নিয়োগ সহ মোজাম্বিক, লাইবেরিয়া এবং পশ্চিম আফ্রিকায় জাতিসংঘের সাথে তিনি দীর্ঘদিন সফল ভাবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
তিনি ০১ আগস্ট ২০১৩-এ সেনা কল্যাণ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেডে ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর এবং হেড অফ অপারেশনস্ হিসেবে যোগদান করেন। উপযুক্ত কর্মকৌশল এবং যোগ্যতার ধারাবাহিকতায় ১০ মার্চ ২০১৭ তারিখে ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং সিইওর দায়িত্ব গ্রহণ করেন। বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স একাডেমি থেকে সার্টিফিকেট এবং স্নাতকোত্তর ডিপ্লোমাসহ যুক্তরাজ্যের চার্টার্ড ইন্স্যুরেন্স ইনস্টিটিউট থেকে এইআইআই (AEII) সার্টিফিকেট সহ নন-লাইফ ইন্স্যুরেন্সের প্রয়োজনীয় যোগ্যতা অর্জন করেছেন।
তিনি কর্মীদের অনুপ্রেরণা এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং লক্ষ্য নির্ধারণ উভয় ক্ষেত্রেই জড়িত থাকার মাধ্যমে আধুনিক নেতৃত্ব পদ্ধতির প্রয়োগে পারদর্শী। মালয়েশিয়া থেকে ব্যাংক অ্যাসুরেন্স এবং এভিয়েশন ইন্স্যুরেন্সের উপর তার বিশেষ প্রশিক্ষণ রয়েছে। তিনি তার চিত্তাকর্ষক কৌশল এবং বীমা খাতের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি দিয়ে সাফল্য অর্জন করেছেন।
এগুলো ছাড়াও ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শফিক শামীম তার সামাজিক দায়িত্ব পালনে উৎসাহী। তিনি কুর্মিটোলা গল্ফ ক্লাব, আর্মি গল্ফ ক্লাব, সাভার, ময়নামতি গল্ফ এবং কান্ট্রি ক্লাব, ঢাকা ক্লাব, ক্যাডেট কলেজ ক্লাবের সদস্য।


অর্থনীতির ৩০ দিন:  বীমা শিল্পে আসার পর আপনার প্রথম জীবনের অভিজ্ঞতা বা প্রথম জীবনের দিনগুলি কেমন?
*ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শফিক শামীম, পিএসসি (অব.),:  বীমা শিল্পের প্রথম জীবনের অভিজ্ঞতা তেমন সুখকর ছিলোনা। ক্যাডেট কলেজের শিক্ষাজীবন ও সেনাবাহিনীতে দীর্ঘ ২৭ বছরের সুশৃঙ্খল পেশাজীবন শেষে বীমা সেক্টরের অপরিচিত ও অগোছালো পরিবেশ ছিলো বিপরীতধর্মী। কিন্তু আমি চ্যালেঞ্জ গ্রহনে পিছপা হতে পারিনি। প্রথমে চেষ্টা করেছি যথাসম্ভব নিজেকে যোগ্য করে গড়ে তুলতে এবং সাথে সাথে সেবাধর্মী একটি professional টিম গড়ে তুলতে, যারা একটি উত্তম মতাদর্শে উদ্ভুদ্ধ হয়ে কাজ করবে। এদিক দিয়ে যে আমরা সফল তা নিশ্চয়ই আপনারা দেখতে পারছেন।
অর্থনীতির ৩০ দিন:  আপনার মতে বীমা শিল্পের প্রতি আমাদের দেশের সাধারন মানুষের নেতিবাচক ধারনার এবং বীমা শিল্পের চাকুরীতে আসতে না চাওয়ার কারন কি এবং কেন?
*ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শফিক শামীম, পিএসসি (অব.),:  বীমা শিল্পের প্রতি আমাদের দেশের সাধারন মানুষের নেতিবাচক ধারনার কারনগুলোর মধ্যে সঠিক সময়ে বীমা দাবী না পাওয়া, বীমা দাবী নিয়ে ভোগান্তি এবং আস্তার সংকট অন্যতম। সাধারন মানুষ এখনও মনে করেন বীমা কোম্পানিগুলো প্রিমিয়াম নেয়ার সময় ঠিক থাকে কিন্তু ক্ষতিপূরন দেয়ার সময় গড়িমসি করে। এসব কারনে সাধারন মানুষের মধ্যে বীমা কোম্পানি কর্তৃক প্রতারিত হওয়ার ভয় কাজ করে। তাছাড়া বীমা সম্পর্কে সাধারন মানুষের জ্ঞানের ঘাটতি রয়েছে। সঠিকভাবে বীমা প্রিমিয়াম পরিশোধ পরবর্তীতে বীমা দাবী পাওয়ার জন্য অন্যতম শর্ত এটি অনেকেই বুঝতে চান না। এছাড়াও বীমা পলিসিতে কোন কোন ঝুকিঁ বীমা দাবীর অর্ন্তভুক্ত এই বিষয়েও সাধারন মানুষ অবগত নয়।
নানাবিধ নেতিবাচক ধারনার কারনে বীমা শিল্পের চাকুরীতে আসতে অনীহা রয়েছে মানুষের।এই অনীহার পেছনে বীমা সেক্টরের স্বল্প বেতন ও সুযোগ সুবিধা অন্যতম কারন। অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানের তুলনায় বীমা শিল্পের চাকুরীর ভবিষ্যত, বেতন কাঠামো ও অন্যান্য সুযোগ সুবিধা তুলনামুলকভাবে কম হওয়ায় মানুষ এই সেক্টরে আসতে আগ্রহী হয় না। বীমা শিল্পে মানুষের আস্থা বৃদ্ধির সাথে সাথে এই সেক্টরে যোগদানে মানুষের আগ্রহ বাড়বে।
অর্থনীতির ৩০ দিন:  ৫৪ হাজার বর্গমাইল এর বাংলাদেশে এতগুলো বীমা কোম্পানী, শোনা যাচ্ছে আরো কয়েকটি কোম্পানী অনুমোদনের অপেক্ষায়, প্রকৃতপক্ষে এতগুলো কোম্পানীর প্রয়োজনীয়তা আছে কি?
*ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শফিক শামীম, পিএসসি (অব.),:  আয়তনে মাত্র ৫৪ হাজার বর্গমাইল হলেও বাংলাদেশ বিশ্বের ৬ তম ঘনবসতিপূর্ন দেশ। দেশের বীমা খাত কতটা পিছিয়ে, তা আন্তর্জাতিক সংস্থা প্রাইসওয়াটারহাউসকুপারসের (পিডব্লিউসি) একটি হিসাবে পরিষ্কার। তারা বলেছে, ২০১৯ সালে বাংলাদেশের মোট দেশজ উৎপাদনে (জিডিপি) বিমা খাতের অবদান ছিল (প্রিমিয়াম আয়) মাত্র শূন্য দশমিক ৪৯ শতাংশ।
আর বীমা প্রিমিয়ামে মাথাপিছু ব্যয় বছরে ৯ মার্কিন ডলার (৭৭৪ টাকা), যা খুবই নগন্য। দেশে সরকারি দুটি সংস্থাসহ ৮৩টি বীমা প্রতিষ্ঠান রয়েছে, এবং ৪৬ টি সাধারণ বীমা কোম্পানী রয়েছে, যা প্রয়োজনের তুলনায় বেশি বলেও মনে করা হয়। বীমা খাতের পরিস্থিতির উন্নয়নে বীমা অধিদপ্তর বিলুপ্ত করে ২০১১ সালে বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ) গঠন করার পর এক যুগ হতে চলেছে, বীমা খাতে অনেক অগ্রগতি হলেও কেউ কেউ মনে করেন, ক্ষেত্রবিশেষে পরিস্থিতি অপরিবর্তিত রয়ে গেছে । ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার সাথে বীমা শিল্পের ক্ষেত্রও বৃদ্ধি পাচ্ছে। বীমা খাতের প্রবৃদ্ধি দেশের সার্বিক ব্যবসা-বাণিজ্যের ওপর নির্ভর করে। যত বেশি কারখানা হবে, তত বেশি অগ্নি বীমা হবে।
এভিয়েশন খাতের আকার বাড়লে বীমাও বাড়বে। বীমা খাত বাড়ছে বলেই যে প্রতিযোগীতা করে বীমা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা বাড়ালে সমস্যা সমাধান হবে তা কিন্তু নয়। প্রকৃতপক্ষে সংখ্যা নয় মান বাড়াতে হবে। এখানে উল্লেখ্য যে, নন লাইফ বীমা ক্ষেত্রে বাংলাদেশ সবচেয়ে কম বীমাকৃত দেশ। যতগুলো বীমা প্রতিষ্ঠান বিদ্যমান আছে সেগুলো যদি বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রন কর্তৃপক্ষের বিধি অনুযায়ী কার্যক্রম পরিালনা করে সাধারন মানুষের আস্তা অর্জনের মাধমে তাদেরকে আরও বেশি বীমা পলিসি গ্রহনে উৎসাহিত করতে পারে তাহলে বিদ্যমান বীমা প্রতিষ্ঠান গুলো নিয়েই আমরা বীমা শিল্পে ভালো অবস্থান অর্জন করতে পারব ইনশাআল্লাহ।
অর্থনীতির ৩০ দিন:  বর্তমানে আমাদের বীমা খাতের প্রতিবন্ধকতা ও চ্যালেঞ্জ গুলো কি কি? টেকসই ও শক্তিশালী বীমা খাত গড়ে তোলার জন্য আমাদের কি করা উচিৎ?
*ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শফিক শামীম, পিএসসি (অব.),:  অন্যান্য খাতের ন্যায় সাধারণ বীমা খাতেও নানা ধরনের চ্যালেঞ্জ, প্রতিকূলতা ও প্রতিবন্ধকতা রয়েছে। এক্ষেত্রে প্রধান চ্যালেঞ্জ হলো আস্তার সংকট। এ খাতের ওপর মানুষের আস্থা কম। তাই কেউ বাধ্য না হলে বীমা করতে আগ্রহী হন না। অথচ পাশের দেশ ভারতেই বীমা জনপ্রিয়। লাইফ ইনস্যুরেন্স করপোরেশন অব ইন্ডিয়ার (এলআইসি) সম্পদের বিশালতা আমরা জানি। বিশেষজ্ঞদের মতে, বিমা খাতে শৃঙ্খলা ফেরাতে পারলে বীমার প্রতি মানুষের আগ্রহ বাড়বে। মানুষের জীবন ও ব্যবসাক্ষেত্রে ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা সহজ হবে। এ জন্য দরকার শক্তিশালী ও নিরপেক্ষ সংস্থা। সাধারণ মানুষ এখনো মনে করে, বীমা কোম্পানিগুলো প্রিমিয়াম নেয়ার সময় ঠিক থাকে কিন্তু ক্ষতিপূরণ দেয়ার সময় গড়িমসি করে। সম্প্রতি বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ সংস্থা (আইডিআরএ) কর্তৃক বাস্তবসম্মত কিছু পদক্ষেপের কারণে ইমেজ সংকট অনেকাংশে কাটতে শুরু করেছে। দ্বিতীয় চ্যালেঞ্জ হলো ব্যাংকের মতো বীমা সেবাও যে জরুরি সেই সচেতনতা এখনো সাধারণ মানুষের মধ্যে তৈরি হয়নি। উন্নত বিশ্বে ব্যাংক ও বীমা একসাথে চলে। প্রত্যেক মানুষের জীবন, বাসস্থান, ঘরবাড়িসহ অন্যান্য সবকিছুর বীমা মোটামুটিভাবে করা হয়ে থাকে। বাংলাদেশে বাধ্য না হলে কেউ বীমা করতে চান না।
তৃতীয় চ্যালেঞ্জ হলো বিভিন্ন রকম কমিশন ও অন্যান্য বাণিজ্য। উদাহরণ হিসেবে বলা যেতে পারে, একজন বীমাকারী ১০০ টাকা প্রিমিয়ামের বিপরীতে ৩০ টাকা কমিশন দিলে এ বীমাটা রি-ইন্সুরেন্স বা পুনঃবীমা করার সুযোগ থাকে না। ফলে দুর্ঘটনা ঘটলে ক্ষতিপূরণ দেয়া দুরূহ হয়। তবে, বর্তমানে এ সমস্যা কিছুটা কাটতে শুরু করেছে। এ ধারা অব্যাহত রাখার পাশাপাশি বর্তমান নেতৃত্বের নির্দেশনা অনুযায়ী কোম্পানিটি যে ট্র্যাকের উপর দাঁড়িয়ে আছে তা থেকে কোন ধরনের তাৎক্ষণিক বিচ্যুতি না ঘটলে অদূর ভবিষ্যতে উপরোক্ত সকল চ্যালেঞ্জই সম্ভাবনায় রূপান্তরিত হতে পারে বলে বর্তমান নেতৃত্বসহ সংশ্লিষ্ট সকল মহল মনে করছে।
অর্থনীতির ৩০ দিন:  প্রায় শতভাগ কোম্পানী ডিজিটাল হওয়ার পথে, এতে করে জনগনকে শতভাগ তথ্য আদান প্রদান ও লেনদেন নিশ্চিত করতে পারছে কিনা এবং কোম্পানীগুলো কতটুকু উপকৃত হয়েছে বলে মনে করেন?
 *ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শফিক শামীম, পিএসসি (অব.),:  ডিজিটালাইজেশনের মাধ্যমে বীমা প্রতিষ্ঠানগুলো জনগনকে শতভাগ না হলেও সন্তোষজনক হারে তথ্য আদান প্রদান ও লেনদেন নিশ্চিত করতে পেরেছে এবং এতে জনগন ও বীমা প্রতিষ্ঠান উভয়ই উপকৃত হয়েছে। গ্রাহকদের কাছে পৌছানোর জন্য ওয়েবসাইট, অ্যাপস,ই-মেইল, সোশাল মিডিয়া , লাইভ চ্যাট, টেক্সট মেসেজ এর ব্যবহারে তাদের সময় সাশ্রয় সম্ভব হয়েছে । বীমা দাবি, ঝুঁকি মূল্যায়ন, মূল্য নির্ধারন আধুনিক সফ্টয়োয়ারের মাধ্যমে করা হয়। ডিজিটাল লেনদেনের মাধ্যমে দ্রুততার সাথে প্রিমিয়াম, বীমা দাবি পরিশোধে ঝুঁকি ও ভোগান্তি হ্রাস করা সম্ভব হয়েছে।
অর্থনীতির ৩০ দিন:  ফান্ডের ক্ষেত্রে তৃতীয় ও চতুর্থ প্রজন্মের কোম্পানীগুলো অনেক পিছিয়ে পড়ার কারন কি?
 *ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শফিক শামীম, পিএসসি (অব.),:  তৃতীয় ও চতুর্থ প্রজন্মের কোম্পানীগুলোর পিছিয়ে পড়ার প্রধান কারন তারা প্রতিষ্ঠিত কোম্পানীগুলোর সাথে ব্যবসায় সুবিধা করতে পারছে না। অধিকাংশ বীমা প্রতিষ্ঠানগুলো গ্রুপভিত্তিক, আমাদের অর্থনৈতিক কাঠামোর ধারনক্ষমতার বেশী গ্রুপ অফ কোম্পানী দেশে গড়ে উঠেছে। ইতিমধ্যে পূর্বে বিদ্যমান প্রতিষ্ঠানগুলো গ্রাহকদের সাথে কমিশন বনিজ্য ভিত্তিক সম্পর্ক গড়ে তুলেছে। এই বৃত্ত অতিক্রম করা তৃতীয় ও চতুর্থ প্রজন্মের কাম্পানীগুলোর জন্য প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে।
অর্থনীতির ৩০ দিন:  একজন বীমাবিদ ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসাবে আপনার কাছে ভিন্ন মতামত জানতে চাই, সাধারণ বীমা এবং জীবন বীমার ক্ষেত্রে শিক্ষিত সমাজের অনীহার কারন কি কি এবং শিক্ষিত সমাজকে বীমার আওতায় আনতে হলে কি কি পদক্ষেপ নিতে হবে?
*ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শফিক শামীম, পিএসসি (অব.),:  শুধু ব্যাংক আর পুঁজিবাজার নয়, আর্থিক খাতের অন্যতম অংশ বিমা খাত। কিন্তু ৫০ বছর বয়সী বাংলাদেশ এ খাতে দুর্ভাগ্যজনকভাবে পিছিয়ে। সাধারণ বীমা এবং জীবন বীমা নিয়ে শিক্ষিত সমাজের অনীহা রয়েছে। মূলত জীবন বীমা কোম্পানির কিছু অদক্ষ কর্মীর কারনে এই ধারনার উৎপত্তি। বীমা এজেন্টদের অদক্ষতা, প্রশিক্ষনের অভাব, বীমা সম্পর্কে বিভ্রান্তি মূলক তথ্য প্রদান, বীমাকারীর নিকট থেকে অধিক প্রিমিয়াম আদায় এবং পলিসি অনুযায়ী দাবী আদায়ের অর্থ সঠিকভাবে প্রদান না করা, অনেক ক্ষেত্রে গ্রাহকদের জীবন বীমা গ্রহনের জন্য বিরক্ত করা এসব কারনে শিক্ষিত সমাজের মধ্যে বীমা শিল্পের প্রতি অনীহা সৃষ্টি হয়েছে। শিক্ষিত সমাজকে বীমার আওতায় আনতে হলে বীমা শিল্পের বড় বড় অর্জনগুলো প্রচার করতে হবে, দক্ষ ও মেধাবী কর্মী নিয়োগ দিতে হবে, কর্মকর্তা/কর্মচারীদের বেতন-ভাতাসহ অন্যান্য সুযোগ সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে।
মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে যথাযথ বিধিবিধান অনুযায়ী অত্র কোম্পানির কর্মকর্তা/কর্মচারীদেরকে পদোন্নতি প্রদান করতে হবে। আশার বিষয় হচ্ছে ,বর্তমান প্রজন্মের অনেক মেধাবী তরুণ-তরুণীরাও বীমা শিল্পে কাজ করতে আগ্রহ দেখাচ্ছে। সাধারণ মানুষের নেতিবাচক মনোভাব পরিহার করে বীমা শিল্পের প্রসার, ক্রমাগত উন্নতি ও সার্বিক সমৃদ্ধিসহ এগিয়ে যাওয়ার জন্য আর্থিক খাতের স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও আধুনিকায়নসহ বীমা সেবা সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেয়া নিশ্চিত করতে হবে।
অর্থনীতির ৩০ দিন:  বাজারে প্রচলিত আছে আইন ভঙ্গ করে অতিরিক্ত কমিশনে ব্যবসা করছে কিছু কোম্পানী, এই অতিরিক্ত কমিশন সমন্বয় করার জন্য কোম্পানীগুলো ডামি কর্মকর্তা নিয়োগ দিয়ে কেউ কেউ পলিসি/কভারনোট বাতিল করে অথবা ভুয়া ক্লেইম করে অতিরিক্ত কমিশন জায়েজ করছে, এসব অনিয়ম রোধে আইডিআরএ এর কি করনীয় বলে মনে করেন?
*ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শফিক শামীম, পিএসসি (অব.),:  অতিরিক্ত কমিশনে ব্যবসা করে কিছু কোম্পানী বীমা শিল্পকে ক্ষতির দিকে ঠেলে দিচ্ছে, এতে করে বীমাকারী ও বীমাগ্রহীতা দু পক্ষই ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে। বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রন কর্তৃপক্ষ কর্তৃক বাৎসরিক এজেন্ট কমিশন সর্ম্পর্কিত অডিট কার্যক্রম গ্রহন করা যেতে পারে। এছাড়াও এসব অনিয়ম রোধে বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রন কর্তৃপক্ষের এজেন্ট কমিশন সম্পর্কিত সর্বশেষ সার্কুলার সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে। সর্বোপরি বীমা শিল্প একটি নির্ভরতার জায়গা, কোম্পানির শীর্ষ কর্মকর্তাদের নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে।
অর্থনীতির ৩০ দিন:  সেনাবাহীনির উপর আমাদের দেশের জনগনের এখনো শতভাগ আস্তা ও নির্ভরতা আছে, সে হিসাবে ব্যবসা সংগ্রহে আপনার কোম্পানী কি কোন চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হয় ?
*ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শফিক শামীম, পিএসসি (অব.),:  মহান মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে জন্ম নেয়া বাংলাদেশ সশস্ত্রবাহিনী অত্যন্ত সুনাম ও সম্মানের সাথে জনগণের বিশ্বাস অর্জনে সক্ষম হয়েছে। সেনা কল্যাণ ইন্সুরেন্স কোম্পানি উপরোক্ত সম্মিলিত বাহিনীর দ্বারা পরিচালিত সেনা কল্যাণ সংস্থার (এসকেএস) একটি অঙ্গ প্রতিষ্ঠান । প্রতিষ্ঠানটি কার্যক্রমকে তরান্বিত করতে প্রধানত দুটি বিষয়কে প্রাধান্য দিয়ে থাকে। প্রথমত, বাংলাদেশ সশস্ত্রবাহিনীর ইতিবাচক ভাবমূর্তি এবং দ্বিতীয়টি হলো উন্নত মানের গ্রাহক সেবা। জনসাধারণের কাছে কোম্পানিটির বার্তা হলো যে কোন বিপদে/প্রয়োজনে অতীতে যেমন শস্ত্রবাহিনীকে তারা সর্বদা পাশে পেয়েছেন, একইভাবে ঝুঁকি গ্রহণেও সেনা কল্যাণ ইন্সুরেন্স-এর উপর ভরসা রাখতে পারেন। দেশে আমরা সবচেয়ে কনিষ্ঠ বিমা কোম্পানী। কিন্তু ৭ বছরে আমরা দেখেছি, সময়মতো ক্ষতিপূরণ দেওয়ায় দিনদিন আমাদের গ্রাহকসংখ্যা বাড়ছে। প্রথম বছর তারা আমাদের সঙ্গে থাকলে দ্বিতীয় বছর এমনিতে নবায়ন করছেন। করোনা মহামারির কারণে ২০২১ সালের মার্চের পর থেকে ব্যবসায় কিছুটা মন্দা গেলেও জুলাই থেকে কোম্পানিটি আবার ঘুরে দাঁড়িয়েছে। বর্তমান সরকার কর্তৃক সময়োপযোগি নানামুখী পদক্ষেপ গ্রহণের ফলে করোনা অনেকটাই নিয়ন্ত্রণের মধ্যে আছে। অন্যদের চেয়ে আমাদের কোম্পানীর সাংগঠনিক কাঠামো সম্পূর্ণ ভিন্ন।
এ কোম্পানির সব শেয়ারই প্রাতিষ্ঠানিক। অর্থাৎ এখানে কোন ব্যক্তিগত শেয়ার হোল্ডার নেই। সব শেয়ারের মালিক সেনা কল্যাণ সংস্থা। এই জন্য এখনো কোন ব্যক্তি স্বার্থ কাজ না করায় অত্র কোম্পানি সরকার তথা আইডিআরএ-এর নিয়মগুলো মেনে চলতে পারে।বিভিন্ন চ্যালেঞ্জগুলোও সুন্দরভাবে মোকাবেলা করতে পারে। সেনা কল্যাণ ইন্সুরেন্স কোম্পানি ২০১৮ সালে নেপালে সংগঠিত ইউএস বাংলা এয়ারলাইনস দূর্ঘটনার বীমা দাবী সঠিকভাবে সম্পন্ন করে এবং ১২৬ কোটি টাকার বীমা দাবী দ্রুততার সাথে পরিশোধ করে।
অর্থনীতির ৩০ দিন:  যদিও আপনি সামরিক বাহিনীর বর্ণাঢ্য জীবন শেষ করে সেনা কল্যাণ ইন্সুরেন্স কোম্পানীকে পরিচালনার দায়িত্বপ্রাপ্ত হন, আপনি একজন সিইও হিসাবে বর্তমানে এই সেক্টরে চাহিদা অনুযায়ী সিইও সংকট আছে বলে মনে করেন কি?
 *ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শফিক শামীম, পিএসসি (অব.),:   আমাকে সিইও হিসাবে দায়িত্ব পাওয়ার জন্য পর্যাপ্ত অভিজ্ঞতার সাথে সাথে প্রযোজ্য প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা অর্জন করতে হয়েছে। আমি আপনার সাথে একমত, এই সেক্টরে উপযুক্ত সিইও এর অভাব রয়েছে।

অর্থনীতির ৩০ দিন:  সম্পর্কে আপনার মতামত…

*ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শফিক শামীম, পিএসসি (অব.),:  অর্থনীতির ৩০ দিন দেশের ব্যাংক, বীমা, শিল্প বিষয়কসহ তথ্যবহুল অর্থনীতি, দেশ ও সমাজ উন্নয়নের উপর নির্ভরশীল সু-পরিছন্ন একটি পত্রিকা। সাহিত্য সাংস্কৃতি, জ্ঞান-বিজ্ঞান, শিক্ষা এবং ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট সমৃদ্ধ একটি জ্ঞানের ভান্ডার হিসাবেও ভাল ভুমিকা রাখার এবং পড়ার মানসম্মত পত্রিকা । শিক্ষিত ও সুশীল সমাজের নিকট পত্রিকাটি গুরুত্বপুর্ন ভুমিকা রাখবে বলে আশা করি।
অর্থনীতির ৩০ দিন:   আপনাকে অনেক অনেক ধন্যবাদ…
 *ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শফিক শামীম, পিএসসি (অব.),:  আপনাকে এবং অর্থনীতির ৩০ দিন পরিবারের সবাইকে ধন্যবাদ।