“যার ছায়া পড়ে ছে… মনে র আয়নাতে”


একি বাঁধনে বল জড়ালে আমায়…,

ভাবি যত বার মরি লজ্জায়…,

খোন্দকার জিল্লুর রহমান :
গায়ে হলুদ পায়ে আলতা হাতে মেহেদি, বিয়ের সাজে কণ্যারে সাজাও জলদি, রূপ দেখে তার যায় মুর্ছা যায় শাশুড়ী-ননদি, গায়ে হলুদ… মুর্ছা তো যাবেই, না গিয়ে উপায় কি? ছেলের জন্যেইতো সব কিছু। চন্দ্র-তারা-মেঘে মেয়ে খুজতে গিয়ে হাতে পেয়ে যায় সেই অনাকাঙ্খিত জীবনের স্বপ্নের রানীকে, যেন সোনায় সোহাগা। সাজগোজ এবং আনুষ্ঠানিকতার মাঝে দীঘর্ ৭ দিন যেন চোখের পলকে পার হয়ে যায়। আগথেকে এরই মাঝে উভয়ের গায়ে হলুদও বাদ পড়ে নাই। স্বপ্নে বিভোর রাজকুমার শেষ পর্যন্ত ২৫ মার্চ স্বাধীনতা দিবসের একদিন আগেই আমৃত্যু পরাধীনতার শৃঙ্খলে আবদ্ধ হয়ে জয়ের আনন্দ উপভোগ করার জন্যই ছিনিয়ে আনতে স্বক্ষ্যম হয় ৪২ নং উত্তর বাসাবোর বাসিন্দা ডা: এসএম খোরশেদ আলম আশ্রাফির দ্বিতীয় পুত্র সৈয়দ সাহরিয়ার আলম (সাব্বির)। সপ্তডিঙ্গা মধুকর সাজিয়ে সেই লম্বা গাড়ির মিছিল পেছনে রেখে ব্যান্ড বাজিয়ে ঝুমুর ঝুমুর নুপুর পায়ে লাল বেনারসি শাড়ীতে সাজিয়ে হাঁটি হাঁটি পা পা করে কাঙ্খিত বন্ধু-বান্ধবদের চোখে তাক লাগিয়ে দিয়ে বীরদর্পে সঞ্চিত জীবনের কাঙ্খিত ভালবাসার বিজয়মাল্য ২৭৩ নং তুষার ধারা আবাসিক এলাকার বাসিন্দা সরকার মুনসুর আহাম্মদ হাবিব ও মিসেস জয়নব বেগম রুনু’র একমাত্র কন্যা মাহমুদা সরকার চমনকে হৃদয়ের গহীন কোনে স্থান দিয়ে জীবনসঙ্গী করে ঘরে তোলে। অপেক্ষায় অপেক্ষায় ছেলের মায়ের যেন তর সয়না, কেন সইবে? সংসার সমরাঙ্গনে দৃঢ়পনে যুদ্ধকরা শত দুঃখ্য-কষ্ট, ঘাত-প্রতিঘাতেও সফলভাবে বিজয়ী সাত সন্তানের (৪ছেলে+৩মেয়ে) জননী এক মমতাময়ী স্নেহাস্পদ মা ইসমতআরা বেগম। নাড়ীকাটা ধন কলিজার টুকরা দ্বিতীয় ছেলের এবং বসন্তের এই কাঁচাফুলে সজ্জিত লালগোলাপ খোপায় লাগানো ছেলেবউ এর অপেক্ষায় দুহাত বাড়িয়ে দিয়ে সাদরে বরন করে বুকে জড়িয়ে নিয়ে আনন্দে উদ্বাসিত, দেখে মনে হয় সোনা ছড়ানো পুর্ণিমা চাঁদের হাসি ঘরকে আলোকি করে তুলেছে। যোগ্য পাত্রের হাতে একমাত্র কন্যা মাহমুদা সরকার চমনকে তুলে দিতে পেরে বাবা-মায়ের আনন্দ আজ বাঁধভাঙ্গা জোয়ারে পরিণত। আর এদিকে যেন হাজার বছর যে রাজ কুমারের অপেক্ষায়, সেই কাঙ্খিত স্বপ্নের রাজকুমার আজ তার হাতের মুঠোয়, নিজেকে উজাড় করে দেয়ার এক মৌ মৌ আনন্দে আন্দোলিত মনকে যেন কোন কিছুতেই থামানো যায় না। সবকিছু যেন নিজের কাছে রোমান্টিক মনে হয়, নিজেকেও বিশ্বাস করতে পারেনা, নিজের শরীরে নিজে চিমটি কেটে দেখে, দুর-ছাই, যা এতো স্বপ্ন নয়, সবই সত্য এবং বাস্তব, নিজেকে ফিরে পায় আনন্দ আর সফলতার মাঝে। এক অজানা আনন্দে মনটা নেচে উঠে…..

“হায় হায় হায় রঙ্গিলা রঙ্গিলা রঙ্গিলা রে..
জীবনের প্রথম বেলায় মন নিলা রে..
আহারে সুন্দরী- আমি যে কি করি…….!!!”
মালিবাগ কমিউনিটি সেন্টার, লাল নীল হাজার হাজার তারাবাতির জলকানিতে জ্বলে উঠেছে, আর নেপথ্য কন্ঠে বেজে উঠল, চন্দন-অ পালঙ্কে শুয়ে একা একা কি হ বে, জীবনে তোমায় যদি পেলাম না!!! কেন?? না পাওয়ার কি আছে, এত আয়োজন আর এত কিছু সব তো পাওয়ার ই জন্যে। এত্তসব আয়োজন তো আর এমনিতে নয়, সবকিছু নিয়ম মাফিক ভাবেই ঘটে যাচ্ছে। উপরে নিচে সকলের তৃিপ্তর ঢেকুর, পোলাউ, রোষ্ট, কাবাব, গরু-খাসীর রেজালা, সবজি, সালাদ, ভোরহানি, জর্দা, কিসের ই বা কম, তবুও যেন একটা শর্টফিল্ম দেখার বাকি রয়ে গেছে। হাঁ সবই সার্থক উপরে হলঘরে গিয়ে সোনালী আলোয় স্বপ্নিল আবেশে যেন স্বপ্নের রাজকুমার আর রাজকুমারীকে দেখে। হাজার বাতির আলোক ঝলকানির মাঝেও সবার দৃষ্টি সন্মুখে সাজানো ষ্টেজের দিকে। বিদ্যুৎ চমকানোর মত ক্যামেরা ও মোবাইলের ক্লিক ক্লিক আওয়াজ আর ফ্লাস লাইটের আলোর ঝলকানিতে প্রায় সকলের হাতে হাতে বিনি সুতায় যুগল বন্ধি করে নেয় সাব্বির-চমনের অপ্রত্যাসিত জীবনের প্রত্যাসিত সার্থকতাকে। মুসলিম রীতি নীতির আমোগ সত্য (জন্ম, মৃত্যু, বিয়ে) এই বিয়ের মাধ্যমে হালাল জীবন যাপনের এক মহাউৎসবকে সঙ্গী করে স্বপ্নিল জীবনের বাস্তবতাকে সামনে রেখে রেজিষ্টারের সবুজ পাতায় স্বাক্ষরের দ্বায়বদ্ধতায় সকলের দোয়া ও মুনাজাতের মধ্যদিয়ে সুখি জীবনের প্রত্যাশায়…