
অর্থনীতির ৩০ দিন সংবাদ :
সাধারণ বীমার কাছ থেকে টিটি না পাওয়ার কারনে বেসরকারি পাঁচটি নন-লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি রি-ইন্স্যুরেন্স ছাড়াই ঝুকিপুর্ণ ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। বীমা কোম্পানিগুলো হচ্ছে, প্রাইম ইন্স্যুরেন্স, কন্টিন্টোল ইন্স্যুরেন্স, রিপাবলিক ইন্স্যুরেন্স, দেশ জেনারেল ইন্স্যুরেন্স ও মেঘণা ইন্স্যুরেন্স পিএলসি। বড় অংকের প্রিমিয়াম বকেয়া থাকায় সাধারণ বীমা কর্পোরেশন এ সকল বীমা কোম্পানিকে রি-ইন্স্যুরেন্স করার জন্য টিটি দিচ্ছে না। বীমা কোম্পানিগুলো উচ্চ ঝুকি নিয়েই নিজ দায়িত্বে বীমা ব্যবসা পরিচালনা করে যাচ্ছে। এতে বীমা গ্রাহকরা মারাত্মক ঝুকিতে রয়েছে । অথচ গ্রাহকের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে রি-ইন্স্যুরেন্স করা আইনি বাধ্যবাদকতা রয়েছে। সূত্রের খবরে এ তথ্য জানা যায়।
সূত্রের খবরে আরো জানা গেছে, দেশের অধিকাংশ নন-লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির কাছে রাষ্ট্র মালিকানাধীন বীমা প্রতিষ্ঠান সাধারণ বীমা কর্পোরেশন কয়েক হাজার কোটি টাকা প্রিমিয়াম পাবে। এই বীমা কোম্পানিগুলো নিয়মিত ভাবে সাধারণ বীমা কর্পোরেশনের প্রিমিয়ামের টাকা পরিশোধ করে না। অথচ দুর্ঘটনাজনিত কারনে বীমা কোম্পানির কোন ক্লেইম হলে দাবীর টাকা পেতে সাধারণ বীমার উপর চাপ দিতে থাকে। এ ভাবে দিন দিন বেসরকারি নন-লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির কাছে সাধারণ বীমা কর্পোরেশনের বকেয়া পাওনা টাকার পরিমান অনেক জমেছে। প্রতি বছর এপ্রিল মাসে নন-লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানিগুলোকে রি-ইন্স্যুরেন্স করার জন্য সাধারণ বীমা কর্পোরেশনের কাছ থেকে রি-ইন্স্যুরেন্সের অনুমতি পত্র (টিটি) নিতে হয়। টিটি পাওয়া ছাড়া কোন নন-লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি সাধারণ বীমা কর্পোরেশনে রি-ইন্স্যুরেন্স করতে পারে না। রি-ইন্স্যুরেন্স করা ছাড়া বীমার অধিক ঝুকি থাকে। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট বীমা কোম্পানিটিকেই সম্পূর্ন বীমা ঝুকি গ্রহন করতে হয়। কিন্তু এ ধরনের আর্থিক সক্ষমতা সম্পন্ন বীমা প্রতিষ্ঠান দেশে হাতে গোনা খুব কমই আছে। রি-ইন্স্যুরেন্স না করায় গ্রাহককে প্রতিনিয়ত মারাত্মক ঝুকির মধ্যে থাকতে হয়।
জানা গেছে, সাধারণ বীমা কর্পোরেশন টিটি দেয়ার ক্ষেত্রে এ বছর বকেয়া প্রিমিয়ামের কমপক্ষে ৫০ শতাংশ টাকা পরিশোধ করার দাবী জানায়। হাতে গোনা কিছু বীমা কোম্পানি ছাড়া বেশির ভাগ বীমা কোম্পানি এই টাকা দিতে গড়িমসি করে। সাধারণ বীমা কর্পোরেশনও শক্ত অবস্থানে থাকে। প্রথম দিকে কোন দেন দরবার করেও তাদের কাছ থেকে টিটি নেয়া সম্ভব হয়নি। অবশেষে সরকারের সঙ্গে বীমা ব্যবসায়িদের সংগঠন বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স এসোসিয়েশনের নেতৃবৃন্দের কয়েক দফা বৈঠকে জটিলতার সাময়িক অবসান ঘটে। এতে বলা হয়, টিটি পেতে হলে বকেয়া প্রিমিয়ামের কমপক্ষে ১৫ শতাংশ টাকা পরিশোধ করতে হবে। এতোবড় সুযোগ দেয়ার পরও পাঁচটি নন-লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি এখনো মাত্র ১৫ শতাংশ টাকা পরিশোধ করে সাধারণ বীমা কর্পোরেশনের কাছ থেকে টিটি নিতে পারে নাই।
জানা গেছে, টিটি না নিতে না পারলেও এ সকল বীমা কোম্পানি বসে নেই। দীর্ঘ প্রায় ৭ মাস সাধারণ বীমা কর্পোরেশনে রিইন্স্যুরেন্স করা ছাড়াই তারা ইন্স্যুরেন্স করছে। এতে বীমা গ্রাহককে মারাত্মক ঝুকিতে পড়তে হচ্ছে। এ সময়ে এ সকল বীমা কোম্পানির করা কোন বীমার ক্লেইম হলে সাধারণ বীমা কর্পোরেশন কোন দায় নিবে না। সাধারণ বীমা কর্পোরেশনে রি-ইন্স্যুরেন্স করা আছে, কেবল এমন ইন্স্যুরেন্সের দায়ভার গ্রহন করবে। সাধারণ বীমা কর্পোরেশন দায়ভার গ্রহন না করায় কেবলমাত্র সংশ্লিষ্ট বীমা কোম্পানিটিকেই সকল দায়ভার গ্রহন করতে হবে। কিন্তু একক ভাবে দায় পরিশোধ করার আর্থিক সক্ষমতা কতটা আছে, সেটি নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।
সাধারণ বীমা কর্পোরেশনের রি-ইন্স্যুরেন্স বিভাগের এজিএম বাকি বিল্লাহ্ এ বিষয়ে বলেছেন, ১৫ শতাংশ হারে পাচঁটি বীমা কোম্পানি এ মাসে টাকা জমা দিয়েছে। তবে তাদেরকে এখনো টিটি দেয়া হয়নি। এ সব নন-লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির মধ্যে কয়েকটি কোম্পানি কিছু পরিমান টাকা দিয়েছে, পুরো টাকা এখনো দেয়নি। আবার একটি কোম্পানির দেয়া চেক ক্যাশ হয়নি। পুরো টাকা না পাওয়া পযর্ন্ত কাউকে টিটি দেয়া হবে না। এখন টিটি পেলে এপ্রিল থেকে পাওয়া সুবিধা তারা পাবে কিনা, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি অর্থবিজকে বলেন, না, যে তারিখে তাদেরকে টিটি দেয়া হবে, ঠিক সেই তারিখ থেকেই সুবিধা পাবে। ধরুন আজ ২৮ আগস্ট টিটি দেয়া হলো, তাহলে আজ থেকে রি-ইন্স্যুরেন্স সুবিধা পাবে। ১ এপ্রিল থেকে গতকাল ২৭ আগস্ট পযর্ন্ত কোন রি-ইন্স্যুরেন্স সুবিধা পাবে না। অর্থৎ এ সময়ে করা কোন ইন্স্যুরেন্সের ক্লেইম হলে তার দায়ভার কোম্পানিকেই পুরোটা নিতে হবে। এর দায় ভার সাধারণ বীমা কর্পোরেশন নিবে না।
নন-লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানিতে সাধারণত ফায়ার, মেরিন, মটর ইন্স্যুরেন্স করা হয়। কোন দুঘর্টনায় ক্ষতি হলে সংশ্লিষ্ট ইন্স্যুরেন্স কোম্পানিটিকে গ্রাহককে ইন্স্যুরেন্সের পুরো টাকা পরিশোধ করতে হয়। এ ক্ষেত্রে রি-ইন্স্যুরেন্স করা থাকলে ইন্স্যুরেন্স কোম্পানিটির দায়ভার কিছুটা কম হয়। দেশের মধ্যে সাধারন বীমা এই দায়িত্ব নিয়ে থাকে।
প্রাইম ইন্স্যুরেন্সের মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল হামিদ বলেন, আমরা দেশে ও বিদেশে রি-ইন্স্যুরেন্স করি। দেশে ইন্সুরেন্স করা না হলেও বিদেশে ইন্স্যুরেন্স করা হয়েছে। এ ছাড়া আমাদের কাছে সাধারণ বীমা কর্পোরেশনের বকেয়া পাওনার ১৫ শতাংশ টাকা আমরা পরিশোধ করেছি। আশা করছি, আমরা টিটি পেয়ে যাব। জানা গেছে, প্রাইম ইন্স্যুরেন্সের কাছে সাধারণ বীমার ৪৪ কোটি টাকার প্রিমিয়াম বকেয়া রয়েছে। ১৫ শতাংশ হারে এই টাকার পরিমান হয় ৬ কোটি ৬০ লক্ষ টাকা। তাকে এই টাকা দিতে হয়েছে। তবে এরপরও কোম্পানিটি সাধারণ বীমার কাছে দেনা রয়েই গেছে। অন্যান্য কোম্পানিগুলোর অবস্থা প্রায় একই অবস্থা।












