সাউথইস্ট ব্যাংক কেনো আস্থা ও নির্ভরতার প্রতিক এবং আলমগীর কবিরের স্বপ্ন

খোন্দকার জিল্লুর রহমান:
হাত বাড়ালেই ব্যাংক, হাত বাড়ালেই ব্যাংক, পুরো দেশটা যেনো ব্যাংকের বাজার। বাংলাদেশটা যেনো জাতীয় স্বার্থের না হয়ে ব্যক্তি এবং দলীয় স্বার্থ উদ্ধারের বাজারে পরিনত হয়েছে, যার কারনে দেশের অনেকগুলো ব্যাংক বর্তমানে দেউলিয়াত্বের দোর গোড়ায়, এ যেনো ত্রাহি ত্রাহি অবস্থা। সাম্প্রতিককালে অনেকেই বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় বেশকিছু ব্যাংক একত্রিকরনের খবরের কারনে অনেক ব্যাংকের উপর থেকে আস্তা হারিয়ে জমানো অর্থ উত্তোলন করে নিজ দায়িত্বে রেখেছেন, আবার অনেকে নিজের কষ্টের জমানো অর্থ এসব ব্যাংক থেকে ফেরত পাবেন কি না সেই চিন্তায় উদ্বিগ্ন। গত দু-এক বছর থেকে বিভিন্ন পত্র পত্রিকা, অনলাইন মিডিয়া, ইলেক্ট্রনিক মিডিয়া এবং আন্তর্জাতিক মিডিয়ার বদৌলতে জনমনে এর প্রতিফলন দেখা যায়। দেশের ব্যাংকগুলির অভিভাবকের ভুমিকায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংকও সরকারের আজ্ঞাবহ ভুমিকা পালন করা ছাড়া রাষ্ট্রীয় স্বার্থে স্বনির্ভর অর্থনীতির তেমন কোন গুরুত্বপুর্ণ ভুমিকা রাখতে পেরেছে বলে খাতসংশ্লিষ্ট কারো মতামত পাওয়া যায় নাই। এছাড়া সম্প্রতি অর্থপাচারকারী, ঋণখেলাপি এবং ব্যাংকখ্যাকো নামে পরিচিত এস আলম গ্রুপের নামে কোন নিউজ না করার জন্য উচ্চ আদালতের নির্দেশনাই এর প্রমান বলে দেশপ্রেমিক সচেতন মহল মনে করেন।

প্রায় চুয়ান্ন হাজার বর্গমাইলের ছোট্ট একটা দেশ বাংলাদেশ, প্রকৃত উন্নয়নের বা উন্নত দেশের সূচকের মানদন্ডে বা মাপকাঠিতে সার্বিক উন্নিত হতে না পারলেও প্রচারে ও প্রসারে কাজের চেয়েও মুখে মুখে ফেনা তুলে ফেলেছে অনেক বেশী। আবার চাহিদার চেয়ে যোগান বেশী হলেও বদহজমের মাত্রাটা বেড়ে যায়, যা কখনোই সুখকর নয়, তাও আবার কোয়ালিটি সম্পন্ন না হলে তো একে বারেই বিপদের চেয়েও মহাবিপদ।

সাধারনত বাংলাদেশে ব্যাংকগুলোকে মুলত দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে, তফসিলি বা তালিকাভুক্ত, নন-তফসিলি বা অ-তালিকাভুক্ত ব্যাংক। ছয়টি রাষ্ট্রিয় বানিজ্যিক ব্যাংক, তিনটি বিশেষায়িত ব্যাংক, ৪৩ টি বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংক ও নয়টি বিদেশি ব্যাংকসহ দেশে মোট তালিকাভুক্ত ব্যাংকের সংখ্যা ৬১টি এবং নন-তালিকাভুক্ত ব্যাংকের সংখ্যা ৫ টি। আরো কয়েকটা ব্যাংক অনুমোদনের অপেক্ষায় পাইপলাইনে আছে বলেও শোনা যায়। এই চুয়ান্ন হাজার বর্গমাইলের ছোট্ট একটি দেশে ব্যাঙের ছাতার মত গজে উঠা অতগুলো ব্যাংক দেশের সার্বিক অর্থনীতিতে কতটুকু স্থিতিশীল ভুমিকা রাখতে পেরেছে তা আমাদের দেশের এক শ্রেনির ক্ষমতালোভী, অর্থলোভী, পাচারকারী ও লুটেরা গোষ্টী না বুঝতে পারলেও দেশের দেশপ্রেমিক সুশীল সমাজ থেকে আপামর সাধারন মানুষ পর্যন্ত কারোরই বুঝার বাকি রয় নাই। স্বাধীনতা পূর্ববর্তী সময়ে অর্থাৎ ১৯৪৭ থেকে ১৯৭১ পর্যন্ত সময়ে এ ভুখন্ডে যে ব্যাংকগুলি কার্যকরি ছিল, সে আমলে এগুলির বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ উথ্যাপিত হয় নাই। স্বাধিনতা পরবর্তী সময় থেকেই বর্তমান পর্যন্ত নির্দিষ্ট একটা সম্প্রদায় বা একটা গোষ্টী বর্তমান পর্যন্ত অবলিলায় একাজগুলি নির্ধিদায় করে যাচ্ছে, যা একটা দেশের সামগ্রিক আর্থিক ব্যবস্থা তথা আর্থিক অবকাঠামোকে দুর্বল এবং ভঙ্গুর অবস্থায় দাঁড় করিয়েছে। তার প্রমান স্বরুপ সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংকে কোন সাংবাদিককে প্রবেশ করতে না দেওয়া, জাতির নিকট দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার যে কোন তথ্য গোপন রেখে স্বীয় স্বার্থ হাসিলসহ কঠোর নিরাপত্বাবলয়ের ভিতরে থাকা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ভোল্ট থেকে রিজার্ভ হ্যাক করে নিয়ে যাওয়া।

১৯৪৭ সালে একটা ঔপনিবেষিক শাসন ব্যবস্থা থেকে স্বাধীন পূর্ব পাকিস্থানকে পুনর্গঠন না করে অর্থ্যাৎ বিধ্বস্থ অর্থনীতিকে পুনর্গঠন না করে কিছু নির্দিষ্ট ব্যক্তি ও গোষ্টী ক্ষমতায়নের জন্য অদুরদর্ষি পরিকল্পনা ও মিথ্যা আশ^াসের মাধ্যমে তখনকার অপরিপক্ক সমাজ ও জাতিকে প্রভাবিত করে নতুন দল গঠনের মাধ্যমে নিজেদের আধিপত্ব বিস্তার করতে সক্ষম হয়। নিজস্ব শাসন এবং নিজস্ব অর্থনীতি পুনর্গঠনের প্রত্যয় নিয়ে অগ্রগতির ধারাবাহিকতায় ১৯৭১ এ দেশ স্বাধিনের পরপর আবার স্বাধিন-সার্ভভৌম রাষ্ট্র বাংলাদেশে ব্যাংকলুট থেকে শুরু করে সেই নির্দিষ্ট পরিবার তথা লুটেরা গোষ্টী আবারো দেশের আর্থিক অবকাঠামো ধ্বংসের হোলিখেলায় মেতে উঠেছিল, যার ধারাবাহিকতা বর্তমানেও পরিলক্ষিত হয়।
তখনকার সেই যুদ্ধবিধ্বস্থ অর্থনীতিকে পুনরুদ্ধার করতে ব্যাংক সহ প্রায় সকল প্রতিষ্ঠান রাষ্ট্রীয়করণ করা হয়, ১৯৮৩ সালে পুনরায় বেসরকারিভাবে বাণিজ্যিক ব্যাংক চালু করা হয় এবং এবি ব্যাংক, সিটি ব্যাংক, ইউসিবিএল, ও ইসলামী ব্যাংক নতুন ব্যাংক হিসেবে অনুমোদন পায়, তাছাড়া ১৯৮৩ সালে সরকার নিয়ন্ত্রিত পূবালী ও উত্তরা ব্যাংক বেসরকারি খাতে ছেড়ে দেওয়া হয় এবং সর্বশেষ আধুনিক ব্যাংক হিসাবে আইসিসি ইসলামী ব্যাংক সংযুক্ত হয় যা প্রথম প্রজন্মের ব্যাংক হিসেবে পরিচিতি লাভ করে। দীর্ঘ লুটপাট, অর্থপাচার, অনিয়মসহ একের পর এক হাত বদল কেন্দ্রীয় ব্যাংকের উদাসীনতার কারনে প্রথম প্রজন্মের আইসিসি ইসলামী ব্যাংকটি বর্তমানে প্রায় দেউলিয়ার পথে এবং গ্রাহকের প্রকৃত সঞ্চিত অর্থও ফেরত দেওয়ার সামর্থ হারিয়েছে।

১৯৯১ সালে থেকে ১৯৯৬ সালের মধ্যে আরও আটটি বেসরকারি ব্যাংক চালু হয় যার মধ্যে সাউথইস্ট ব্যাংক, প্রাইম ব্যাংক, ঢাকা ব্যাংক, ডাচ্-বাংলা ব্যাংক, আল আরাফা ব্যাংক ও এসআইবিএল নতুন ব্যাংক হিসেবে অনুমোদন পায়। ব্যাংক অফ ক্রেডিট এন্ড কমার্স ইন্টারন্যাশনাল (ওভার্সিস) লিমিটেড বা দেশীয় ব্যাংক বিসিসিআই ইস্টার্ন ব্যাংক লিমিটেড নামে দেশীয় বেসরকারি ব্যাংকে রূপান্তরিত করা হয়, এবং অপর ন্যাশনাল ক্রেডিট লিমিটেডকে এনসিসিবিএল নামে বেসরকারি ব্যাংক হিসেবে অনুমোদন দেয়া হয় যা দ্বিতীয় প্রজন্মের ব্যাংক হিসেবে পরিচিত। সাময়িকভাবে এই ৮ ব্যাংকের মধ্যে সাউথইস্ট ব্যাংক অগ্রগতি ও অভিযাত্রায় গ্রাহক এবং ষ্টেকহোল্ডারদের নিকট দ্রুতসেবা, কমিটমেন্ট রক্ষা, গ্রাহক মননশীল আস্থায় এবং ব্যাংকের উচ্ছ পর্যায় থেকে নিম্ন পর্যায় ব্যাংকিং মনোভাবাপন্ন কর্মকর্তা-কর্মচারি নির্বাচনে অনন্য স্থিতিশীলতায় এক অভিন্ন শ্রেষ্ঠত্ব অর্র্জন করতে সক্ষম হয়েছে।
সাউথইস্ট ব্যাংকের এখনকার গল্পটি একেবারেই সম্পুর্ণ ভিন্ন, এটা কাউকে উদ্বোদ্ধ বা প্রলুদ্ধ করার জন্য নয়, আমার এক ব্যবসায়ী বন্ধু এক বছরেরও কিছু কম সময় পুর্বে তার ব্যাবসায়ীক সামগ্রী আমদানি করার জন্য এলসি করতে বেশকিছু ডলারের প্রয়োজন পড়ে, সে সময় আমাদের দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট এবং ব্যাংকগুলিতে ডলার সঙ্কট প্রকট আকার ধারন করে। পরপর সাত আটটি ব্যাংকের বৈদেশিক বানিজ্য শাখায় গিয়েও এলসি করা বা ডলারের কোন সমাধান করতে না পেরে হতাশ হয়ে নিজের অফিসে ফিরে আসেন। হঠাৎ আমার কথা মনে পড়তেই ফোনে আমার সাথে যোগাযোগ করে এবং আমার ফেসবুক, অর্থনীতির৩০দিনবিডিডটকম অনলাইন এবং অর্থনীতির ৩০ দিন সেপ্টেম্বর – ২০২৩ মেগাজিনে প্রকাশিত “সাউথইস্ট ব্যাংকের স্বপ্নদ্রষ্টা ও একজন আলমগীর কবির” শিরোনামে উল্লেখিত প্রতিবেদন এবং ব্যাংকটির বিষয়ে জানতে চায়। বিষদ কোনকিছু আলোচনা না করে আমার সে বন্ধুকে সাউথইস্ট ব্যাংকে গিয়ে আলাপ করতে বলি, এবং আমার বন্ধুটিও সে মতে সাউথইস্ট ব্যাংকে গিয়ে আলাপ আলোচনা করে ব্যাংকের এমপ্লয়দের সুন্দর উপদেশ ও সেবার মাধ্যমে নিজের ব্যবসায়ীক কাজের সমাধান করে এসে অত্যন্ত আনন্দের সাথে আমাকে জানায়, আপনার উল্লোিখত প্রতিবেদনটির কথায় ও কাজে আমাকে মুগ্ধ করেছে। দেশে সাউথইস্ট ব্যাংকের মত এত ভালো একটি ব্যাংক কাজ করে, সেটা আপনার কথায় না গিয়ে কখনো বুঝতে পারতাম না। সাউথইস্ট ব্যাংকের পরিচালনা পর্যদ, বিশেষ করে এই ব্যাংকের সুযোগ্য এবং সম্মানিত চেয়ারম্যানকে আমার সশ্রদ্ধ সালাম, যাতে দেশের স্বার্থে এসব মানুষগুলো যেনো আজীবন বেঁচে থাকেন।

গল্পের এখানেই শেষ নয়, সাউথইস্ট ব্যাংক লিমিটেড দ্বিতীয় প্রজন্মের একটি বেসরকারি ব্যাংক, ১৯৯৫ সালে এ ব্যাংকটি প্রতিষ্ঠিত হয়, ১৯৯৯ সালে ব্যাংকটি ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের তালিকাভুক্ত হয়। ২০০০ সাল থেকে প্রথম চার বছর চেয়ারম্যান ছিলেন যথাক্রমে আব্দুল্লাহ ইউসুফ হারুন, এমএ কাসেম, আজিম উদ্দিন আহমেদ ও রাগীব আলী দায়িত্ব পালন করেন। ২০০৪ সালে সেপ্টেম্বর মাস থেকে যখন ব্যাংটির সংকটাপন্ন অবস্থায় দেউলিয়া হওয়ার দারপ্রান্তে উপনিত হয়, ঠিক তখনই দৃড় প্রত্যয় এবং সাহসী পদক্ষেপ নিয়ে আলমগীর কবির এফসিএ দ্বিতীয় প্রজন্মের এই সাউথইস্ট ব্যাংক লিমিটেডের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করে আজো পর্যন্ত প্রায় ২১ বছরেরও বেশি সময় ধরে সুশৃংখল ও শতভাগ কমিটমেন্টের মাধ্যমে ব্যাংক পরিচালনা করে আসছেন। একজন অপ্রতিদ্বন্দ্বী ব্যাংকার হিসেবে ব্যাংকের ৭০৭নং বোর্ড মিটিংএ সর্ব সম্মতিক্রমে তিনি সাউথইস্ট ব্যাকের চেয়ারম্যান পুনঃনির্বাচিত হন।

একটি ব্যাংকে দুর্বল এবং প্রায় দেউলিয়া অবস্থা থেকে বিগত ২১ বছর সময়ে পারিবারিক গন্ডি থেকে বের করে প্রাতিষ্ঠানিক ব্যাংক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার কৃতিত্ব ব্যাংকিং জগতে সূ-কৌশুলি এবং সফল ব্যাংকার হিসাবে সাউথইস্ট ব্যাংক লিমিটেডের বর্তমান চেয়ারম্যান আলমগীর কবির এফসিএ’র নাম দেশের ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকলেও হয়তো কমই হবে। এতকিছুর অধিকারি হয়েও কোন লোভ-লালসা, লুটপাট বা অবৈধ অর্থপাচারের মত কোন কালিমা এই মহান দেশপ্রেমিক সাদা মনের মানুষটিকে স্পর্শ করতে পারেনাই কখনো। একান্ত আলাপ চারিতায় তিনি বলেন, “আমার স্বপ্ন ছিল নিজে শিল্পপতি না হয়ে অসংখ্য শিল্পপতি তৈরিতে সহায়তা করা, যাতে দেশের শিল্প স্বয়ংসম্পূর্ণ হয়, আমার সেই স্বপ্ন সফল হয়েছে।” তিনি আরো বলেন এই ব্যাংকে কোন বেনামি ঋণ নেই, আমরা খুব স্বচ্ছ ও জবাবদিহিতার সাথে ব্যাংক পরিচালনা করি এবং গ্রাহকসেবা দিয়ে থাকি। ব্যাংকটি সম্প্রতি নিজস্ব এমপ্লয়দের জন্য বেশ কিছু প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছে, এখানে নিম্ন স্তরে যারা চাকরি করেন তাদের বেতন সর্বনিম্ন ২০ হাজার টাকা, তা ছাড়া ঢাকায় ব্যাংকের নিজস্ব বিলাসবহুল বাসে অফিসে আসা যাওয়ার যে ব্যবস্থা আছে তা সিলেট, চট্টগ্রাম ও অন্যান্য বিভাগিয় শহরেও সম্প্রসারণ করার চিন্তাাভাবনা রয়েছে। দীর্ঘ আলোচনার এক পর্যায়ে তিনি জানান গত ২০/২১ বছর আমি চেয়ারম্যান থাকাকালে ব্যাংককের উন্নয়ন করা ছাড়া আমার পরিবারকে কিছু দিতে পারিনি।
এখানে উল্যেখ্য যে সাউথইস্ট ব্যাংক লিমিটেডের ২০২৩ সালের অগ্রগতি ও অন্যান্য স্বচিত্র প্রতিবেদন দেওয়া হলো, বাকি সমস্থ তথ্য ব্যাংকের ওয়েব সাইড
 https://www.southeastbank.com.bd/documents/sbl_annual_report/SEBPLC_AR-2023.pdf  পাওয়া যাবে……