“ডেল্টা লাইফে নতুন পরিচালনা পর্ষদ, প্রশাসক প্রত্যাহার”


খোন্দকার জিল্লুর রহমান :
৩০ জুলাই ২০২২, প্রশাসককে প্রত্যাহার করা হচ্ছে ডেল্টা লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি থেকে। সেই সাথে দায়িত্ব নিচ্ছে নতুন পরিচালনা পর্ষদ। আগামী বৃহস্পতিবার অর্থ্যাৎ ৪ আগস্ট ২০২২ থেকে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হতে যাচ্ছে বলে বিশেষ সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
আগে ২০২১ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি ডেল্টা লাইফের পরিচালনা পর্ষদ প্রত্যাহার করে বীমা খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থা আইডিআরএ। বীমা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের সাবেক সদস্য সুলতান-উল-আবেদীন মোল্লাকে প্রশাসক নিয়োগ দেয়া হয়। পরে গত দেড় বছরে দফায় দফায়(৩) প্রশাসক পরিবর্তন করে বর্তমানে প্রশাসক হিসেবে দায়িত্বে আছেন আইডিআরএ’র সাবেক সদস্য কুদ্দুস খান।
তথ্যসূত্র জানায়, গত ২৪ জুলাই আইডিআরএ কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক সভায় সমাঝোতার মধ্য দিয়ে নতুন পরিচালনা পর্ষদ গঠনের সিদ্ধান্ত হয়। ওই বৈঠকে আইডিআরএ, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ও ডেল্টা লাইফের প্রত্যাহারকৃত পরিচালনা পর্ষদের সদস্য ও নতুন পরিচালনা পর্ষদের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন এবং ওই বৈঠকে নতুন পরিচালনা পর্ষদ গঠনসহ কোম্পানি পরিচালনায় ১০টি সিদ্ধান্ত গ্রহন করা হয়।
নির্বাচিত পরিচালনা পর্ষদের সদস্য যারা:
ডেল্টা লাইফ ইন্স্যুরেন্সের নতুন পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান হাফিজ আহমেদ মজুমদার; ভাইস চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. মো. জুনায়েদ শফিক; পরিচালক সুরাইয়া রহমান, তিনি প্রত্যাহারকৃত পরিচালনা পর্ষদেও ছিলেন; পরিচালক আদিবা রহমান, যিনি কোম্পানিটির সাবেক মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা; পরিচালক জেয়াদ রহমান, তিনিও প্রত্যাহারকৃত পরিচালনা পর্ষদে ছিলেন; পরিচালক সাকিব আজিজ চৌধুরী; পরিচালক চাকলাদার রেজানুল আলম এবং পরিচালক সাকিব আজাদ।
ডেল্টা লাইফ পরিচালনায় ১০ সিদ্ধান্ত
কোম্পানিটি পরিচালনায় নেয়া সিদ্ধান্তগুলো হলো- গত ২৪ জুলাই বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ অনুষ্ঠিত সভার সিদ্ধান্ত মোতাবেক কোম্পানির নতুন পরিচালনা পর্ষদ বিদ্যমান সকল আইন পরিপালনপূর্বক সকল কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে; কোম্পানির আর্থিক বিবরণী সম্পর্কিত তথ্যাদি উদঘাটনে নতুন করে অডিট ফার্মের মাধ্যমে কার্যক্রম সম্পাদন করা যাবে।
ইতোপূর্বে নিরীক্ষণকৃত নিয়মাবলী শুনানি সাপেক্ষে নিষ্পত্তি করা হবে; এক বছরে ব্যবসায়িক কৌশলপত্র প্রদান করা হবে এবং তার অগ্রগতি প্রতি ১ মাস অন্তর অন্তর কর্তৃপক্ষের নিকট দাখিল করা হবে, দ্রুততম সময়ে বীমা আইন ও অন্যান্য আরোপিত বিধি-নিষেধ পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে অনুসরণ করে একজন দক্ষ ও গ্রহণযোগ্য মুখ নিবাহী কর্মকর্তা (সিইও) নিয়োগ দেয়া হবে। পূর্বে যদি কোন অনিয়ম চিহ্নিত হয়ে থাকে তার কোন পুনরাবৃত্তি যাতে না ঘটে সেভাবে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে; কর্তৃপক্ষ কর্তৃক পূর্বের জরিমানা আইন অনুযায়ী বিবেচিত হবে; পরিচালনা পর্ষদে আগামী ৩০ জুন ২০২৩ পর্যন্ত পর্যবেক্ষক হিসেবে মন্ত্রণালয়ের একজন উপযুক্ত প্রতিনিধি (যুগ্নসচিবের নিম্নে নয়) অন্তর্ভুক্ত থাকবেন।
চলমান মামলাসমূহ আগামী ৩১ আগস্ট ২০২২ তারিখের মধ্যে প্রত্যাহার করার বিষয়ে প্রযয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। সেই সাথে কর্তৃপক্ষের মামলাসমূহ নিষ্পত্তির বিষয়ে সহায়তা করা হবে এবং এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন প্রতি মাসে কর্তৃপক্ষের নিকট দাখিল করা হবে; পারস্পরিক সমঝোতায় গঠিত নতুন পরিচালনা পর্ষদ আগামী বার্ষিক সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত না হওয়া পর্যন্ত নিরবিচ্ছিন্নভাবে দায়িত্ব পালন করবে এবং ডেল্টা লাইফ ইন্স্যুরেন্সে প্রশাসক নিয়োগের পর দফায় দফায় নিরীক্ষক নিয়োগের মাধ্যমে তদারকি করে বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ, সেইসাথে একেক সময়ে একেক ধরণের আর্থিক অনিয়মের অভিযোগও তোলা হয়। ২০২১ সালের ১ ডিসেম্বর অর্থমন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগকে দেয়া এক চিঠিতে বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ আইডিআরএ জানায়, কোম্পানিটির ৩ হাজার ৬৮১ কোটি টাকা আর্থিক ক্ষতি হয়েছে।
এই আর্থিক অনিয়মের হিসাবের অসঙ্গতি নিয়ে গত ৯ ডিসেম্বর ২০২১ তারিখে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ করে অর্থনীতির ৩০ দিন, ইন্স্যুরেন্স নিউজ বিডিসহ বিভিন্ন পত্র-পত্রিকা ও্ অনলাইন, যার পরিপ্রেক্ষিতে অপর আরেকটি চিঠিতে মন্ত্রণালয়কে প্রশাসক নিয়োগের অযৌক্তিকতাসহ ২৬শ’ কোটি টাকার অনিয়ম হয়েছে কোম্পানিটিতে বলে জানানো হয়েছে।
২০২১ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি সংবাদ সম্মেলন করে নিয়ন্ত্রক সংস্থা আইডিআরএ’র চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে ২ কোটি টাকা ঘুষ চাওয়ার অভিযোগ তোলে ডেল্টা লাইফ কর্তৃপক্ষ সেইসাথে ঘুষ চাওয়ার ফোনালাপও গণমাধ্যমে প্রকাশ করে বলে যানা যায়। উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ, আইডিআরএ’র চেয়ারম্যানের ঘুষ, দুর্নীতি ও অর্থ কেরেঙ্কারির বহুল আলোচিত ঘটনা নিয়ে অর্থনীতির ৩০ দিনবিডি ডটকম‘এ পাঁচ পর্বের ধারাবাহিক প্রকাশিত হয়। পরবর্তীতে আর্থিক অনিয়ম, ঘুষ-দুর্নীতিসহ নানান অভিযোগের কলঙ্ক মাথায় নিয়ে গত ১৪ জুন ২০২২শে পদত্যাগ করেন আইডিআরএ এর সাবেক চেয়ারম্যান ড. এম মোশাররফ হোসেন।