খোন্দকার জিল্লুর রহমান
মাথায় কত প্রশ্ন আসে দিচ্ছেনা কেউ জবাব তার
সবাই বলে মিথ্যা বাজে বকিসনে আর খবর্দার…!

শিখার কোন শেষ নেই, জ্ঞানের কোন সীমা নেই , জ্ঞান অর্জন করতে হলে সুদুর চিন পর্যন্ত যাও। মহাকালের মহা এই উক্তি বর্তমান প্রযুক্তির যুগে অকেটাই অচল। তথ্যপ্রযুক্তির উন্নয়ন ও অগ্রগতির এই যুগে ডিজিটাল পদ্দতিতে ঘরে বসেই অনেক কিছু শিখা যায়, যানা যায়। সুদুর চিন যেতে হয়না। আবার বহুবিদ আবিস্কারের দেশ হিসাবে চিন খ্যাতি অর্জন করলেও প্রানঘ্যাতি সংক্রমক ব্যাদি করোনা ভাইরাস সারা বিশ্বে ছড়ানো দ্বায় এড়াতে পারবেনা।
বর্তমানে অনেক কিছু লিখতে গেলে লিখতে পারিনা, বলতে গেলেও বলতে পারিনা, ভয় হয়। কারণ আমাদের হাত বেঁধে দিয়েছে তাও আবার পিছমোড়া দিয়ে, মুখে কুলুপ এঁটে দিয়েছে কালো কাপড় দিয়ে। তাই নিজেকে বাঁচিয়ে রাখতে হলে, নিজের মা হারা সন্তানের নিকট ফিরে আসতে হলে, আবার অতি উৎসাহিদের রোষানল থেকে বাঁচতে হলে করতে হয অভিনয় নিজের বিবেক, সততা, ন্যায় নীতিকে বিবর্জিত করে বলতে হয়, আমি কিছু দেখিনাই, আমি কিছু শুনিনাই, আমি কিছু বলিনাই ও আমি কিছু লিখিনাই। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন দিয়ে লেখক, সম্পাদক, প্রকাশক, সাংবাদিকসহ মতামত প্রকাশের স্বাধিনতাকে আষ্টে পৃষ্টে বেধে দিয়েছে। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন কোনদিক দিয়ে খারাপ না হলেও প্রশাসনের কথিত কিছু অতি উৎসাহি কিছু দুর্ত কর্মকর্তা কর্মচারি নিজেদের অনৈতিক কর্মকান্ডের পথকে উন্মুক্ত রাখার জন্যই এই আইনকে স¤পূর্ণ জাতিয় স্বার্থে সাজিয়েছেন বলে মনে হয়নাই। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন দুষ্টের দমন শিষ্টের পালন করতে গিয়ে প্রশাসনের কিছু দুর্নীতিবাজ লোকের কারনে দুষ্টের পালন শিষ্টের দমনে পরিণত হয়েছে। তাদের কারনে বর্তমানে দেশের ইতিহাসের অমরত্তে স্বর্ণাক্ষরে লিখিত একজন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশে করোনার এই মহাদুর্যোগ ও সংকটে জনগনের জন্য দেয় জনহিতৈষী কর্মকান্ডকে কিছুটা হলেও বিতর্কিত করেছে।
‘সাংবাদিকেরা জাতির বিবেক’ কথাটি বিভিন্ন সময় বিভিন্ন দায়িত্বশীল লোকের কণ্ঠে শোনা যায়। সমাজের তৃণমূল থেকে রাষ্ট্রের দায়িত্বরত সর্বোচ্চপর্যায় পর্যন্ত সর্বক্ষেত্রের প্রচার, প্রসার, দুর্নীতি, সমাজনীতি, রাজনীতি, সফলতা, সব কিছুরই উপস্থাপন প্রকাশ হয় সাংবাদিকের কলমের মাধ্যমে। এ জন্যই সাংবাদিকেরা জাতির বিবেক। সুশীলসমাজের অনেকেই বলেন, ‘রাষ্ট্রে যখন টেরোরিজম হয়, তখন সমাজের এলিট ও অ্যারিস্টোক্রেট পারসনরা কোণঠাসা হয়ে যান। গত এগার বছরে বর্তমান ক্ষমতাসীন সরকারের আমলে দেশে ২৭ জন সাংবাদিক খুন হয়েছেন। সাগর-র“নিসহ চাঞ্চল্যকর জোড়া খুনের কোনো প্রকৃত আসামি আজ পর্যন্ত গ্রেফতার হয়নি। প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষ ভাবে খুন হওয়া ২১টি চাঞ্চল্যকর ঘটনার আজ পর্যন্ত কোনো বিচার হয়নি। যে জাতি তার বিবেককে হত্যা করে বা খুন করে সে জাতি বিশ্বদরবারে কিভাবে মাথা উঁচু করে দাঁড়াবে?
জাতির পিতা সাংবাদিকদের লেখনির মাধ্যমে জানতে পেরে আক্ষেপ করে বলেছিলেন ‘আমার সামনে পেছনে ডানে বাঁয়ে সবই চোর নাহলে দেশে সাড়ে সাত কোটি লোক (তখনকার পরিসংখান অনুযায়ী) সবার জন্য একটা করে কম্বল এনেছি আট কোটি, কিন্তু আমার কম্বল কই আমিআে কম্বল পাই নাই’। এসব কারনে অনেক সাংবাদিককে খুন সহ নির্যাতিত ও নিস্পেসিত হতে হয়েছে। তখন জাতির পিতা সাংবাদিকদের নিরাপত্তা ও অধীকার আদায়ের জন্য প্রেস কাউন্সিল গঠন করেছিলেন। দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলেও হাটিহাটি পা পা করে চলা প্রেস কাউন্সিল বর্তমানেও একজন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতির মাধ্যমে সাংবাদিক খুন, গ্রেপ্তার, নির্যাতন ও নিরাপত্তার ব্যাপারে কেন শক্ত ভুমিকা পালন করতে পারছে বলে অনেকে মনে করেন না। কেহ কেহ আবার প্রেস কাউন্সিলকে কাগুঁজে বাঘ বলেও মনে করেন। জনগনের সেই অধীকার রক্ষা করতে গিয়ে এবং একটা সুখি সমৃদ্ধ জাতি গঠনের প্রত্যাসিত কাজ করতে গিয়ে কিছু বিপথগামি সেনা সদস্যের হাতে জীবন দিতে হয়েছে স্বপরিবারে জাতির পিতাকে। যার জন্য জাতি আজ ভাগ্যবিড়াম্বিত।
স্বাধীনতার স্থপতি এবং যোগ্য পিতার যোগ্য কণ্যা হিসাবে মাননিয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা হয়তো সে ভুলটা করেন নাই বা করবেন না। দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থেকে সম্পুর্ণ দোষত্রুটি মুক্ত না থাকতে পারলেও (নিজের কথা অনুযায়ি) একটা দেশকে স্বল্প আয়ের থেকে মধ্যম আয়ের দেশে এগিয়ে নেয়া, কঠোর হস্তে জঙ্গি দমন করা, মাদক সম্রাটদের নিধন, কেসিনো কান্ডের অবসান ও হোতাদের গ্রেপ্তার, যুদ্ধাপরাধের বিচার, পদ্মাসেতু নির্মন, দেশের যোগাযোগ ব্যাবস্থার আমুল পরিবর্তনসহ বেশ কিছু কাজ করে জনপ্রিয়তা অর্জনে স্বক্ষম হন। সবচেয়ে লক্ষনিয় ব্যাপার হল সারা বিশ্ব যখন করোনায় স্তব্ধ মানুষ অসহায়, দেশে দেশে লাসের সারি, সারাবিশ্বে তিন লক্ষাদিক লোকের মৃত্যু, বিশ্বের ক্ষমতাধর নেতারা করনার নিকট পরাজিত, ব্যার্থ ও অসহায় , ঠিক তখনই তৃতিয় বিশ্বের একটা উন্নয়নশীল দেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আত্মত্যাগ অভিস্মরনিয়।
০৮ মার্চ দেশে প্রথন করোনা সনাক্ত হওয়ার পর পরই জাতির পিতার জন্মশতবার্ষীকির সকল কর্মসূচি স্থগিত করার কঠিন সিদ্ধান্ত অতি উৎসাহি ও হীনস্বার্থ বাস্তবায়নকারি কিছু লোকের বাড়াভাতে ছাই পড়লেও নিজের প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে অটল থাকেন। করোনা মহামারির লকডাউনেও যিনি দেশের কর্মহীন গৃহবন্দি প্রান্তিক জনগোষ্টিথেকে শুরুকরে নিম্ন,নিম্নবিত্ত, এবং মধ্যবিত্ত লোকেদের জাত ভেদাভেদ ভুলে দলমত নির্বিশেষে নিজের নিরাপত্ত্বার চিন্তা না করে সকলের প্রতি সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেন। লকডাউনে গৃহবন্দি কোন লোক যেন খাদ্য বঞ্চিত না হয় এবং রাতের আঁধারে খাদ্যসামগ্রি নিয়ে হাত পাততে না পারা লোকেদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে পৌঁছে দেয়ার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হাজার বছর পুর্বের হযরত ওমরের শাসন ব্যবস্থার কথাই স্মরন করিয়ে দেন। গিনেস বুকে নাম না উঠলেও ক্ষুদ্রআয়তনের বিশাল জনগোষ্টির এই দেশে প্রধানমন্ত্রী শেক হাসিনার এই মহানুভবতা বিশ্ব-মানবতাকে হার মানিয়েছে যা বিশ্বের কোন প্রধানমন্ত্রীর এমন নজির আছেবলে প্রমানিত হয় নাই।
রূপপুর পরমানবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের বালিশ কান্ড, রংপুর মেডিকেলের পর্দাকান্ড (২০ হাজার টাকর পর্দা ৩৮লক্ষ টাকা) চট্রগ্রাম মেডিকেলের স্যালাইন ষ্টেন্ডকান্ড (১২০০টাকার ষ্টেন্ড ৬৫,০০০ টাকা), আই ডি আরএ র কর্মকর্তার মোবাইল চার্জার কান্ড (২২০ টাকার চার্জার ২২,০০০ টাকা), শেয়ার বাজার লুট, ব্যাঙ্কের টাকা আত্মসাত, ব্যাংক মালিকসহ বিভিন্ন ব্যাবসায়ী আমলা ও রাজনীতিবিধদের বিদেশে টাকা পাচার, সুইস ব্যাঙ্কে টাকা জমানো, কানাডার বেগমপাড়ায় জমিক্রয় করে বাড়ী বানানো কোনটাই প্রধানমন্ত্রীসহ দেশের সাধারন জনগনের দৃষ্টি এড়ায় নাই। করোনার এই মহাদুর্যোগেও কথিত সুযোগ সন্ধানি এসব জনপ্রতিনিধী ও নেতারা কর্মহীন অসহায় জনগোষ্টির সাহায্যে এগিয়ে না আসলেও উপরন্ত সরকারি ত্রানসামগ্রি লুটপাট, টিসিবির তৈল চুরি, খুন, ধর্ষণ, চুরি ডাকাতির দ্বায়ে গ্রেপ্তার পরে প্রত্যাহার (৭০জন প্রায়) ও সরকারের নগদ প্রনোদনায় একই নাম্বারে একই পরিবারের একাদিক নামসহ বহুপরিবার সংযোযন প্রধানমন্ত্রীর ভাবমুর্তিকে কিছুটা হলেও ম্লান করেছ। বাহ্যিকভাবে বঙ্গবন্ধুর আদর্ষের সৈনিক পরিচয়ধারি কথিত এসব নেতা কর্মীরা নৈতিকভাবে দেশ, জাতি, দল ও প্রধানমন্ত্রীকে ভাল না বেশে অপকর্মের মাঝে নিজেদের সুযোগ সুবিদা অর্জনকে বেশী ভালবাসেন। গর্থ থেকে তথ্য বেরকরে আনার কারনে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের অপব্যাবহার করে এসব অনৈতিক ও দুনীতিবাজ রাঘব বোয়ালদের পোষ্য হিসাবে কিছু অখ্যাত কুখ্যাত নেতা কর্মী দেশের সাংবাদিকদেরকে খুন নির্যাতনসহ নানাভাবে হয়রানি করে চলেছে যা একজন সাংবাদিক বান্ধব প্রধানমন্ত্রী হিসাবে শেখ হাসিনা কখনো আশা করেন নাই।
একটা উন্নয়নশীল রাষ্ট্রের সর্বোচ্চপর্যায় থেকে সর্বক্ষেত্রের প্রচার, প্রসার, দুর্নীতি, অপকর্ম, সমাজনীতি, রাজনীতি, সফলতা, ব্যার্থতা, খুন, ধর্ষণসহ সব কিছুরই উপস্থাপন প্রকাশ হয় জাতির বিকেখ্যাত সাংবাদিকের কলমের মাধ্যমে। অতি সম্প্রতি হাইকোর্টের একজন বিচারপতি বলেছিলেন, ‘সাংবাদিকরা আরো বেশী সজাগ থাকলে দেশ আরো অনেক ভাল চলবে, তাই সাংবাদিকদের আরো সুযোগসুবিদা দেয়া দরকার’। হাইকোর্টের এই বিচারপতি যেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মনের কথাটাকেই প্রকাশ করেছেন।
বর্তমান সরকারের তৃতিয় দফায় ক্ষমতায় আসার পর গতবেশ কবছরে দেশে ২৭ জন সাংবাদিক খুন হয়েছেন। প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে খুন হওয়া ২৪টি চাঞ্চল্যকর ঘটনার আজ পর্যন্ত কোনো বিচার হয়নি। প্রায় ৮০০ এর বেশী সাংবাদিক নির্যাতন ও বিভিন্নভাবে হয়রানির শিকার হয়েছেন। চার বছরে সাড় ৬০০টি ঘটনায় ২৮২ জন সাংবাদিক আহত ও ৮৪ জন সাংবাদিক লাঞ্ছিত হয়েছেন।
বিভিন্ন সময়ে দেশের প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতিসহ দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা বিদেশে যাওয়ার সময় সাংবাদিকদের সাথে করে নিয়ে যান রাষ্ট্রীয় এবং নিজেদের উন্নয়ন কার্যক্রম সারা বিশ্বে এবং দেশের জনগণের দৃষ্টিগোচরে আনার জন্য। সাংবাদিকেরাও এ কাজটি নির্বিঘেœ করে যান। মুজিববর্ষে প্রেসকাউন্সিলকে আরো অধিক কার্যকর ভুমিকায় এনে সাংবাদিকদের নিরাপত্তা ও সাংবাদিক হত্যা ও নির্যাতন কারীদের প্রকৃত বিচার করে দেশ ও জাতির বিবেক সমুন্নত রাখবেন বলে মাননিয় প্রধানমন্ত্রীর নিকট আজকের প্রত্যাশা।
লেখক ঃ সম্পাদক প্রকাশক, অর্থনীতির ৩০ দিন।











