কেউ এগিয়ে আসছে না, আইডিআরএ চেয়ারম্যান, চার সদস্যসহ সবকর্মচারী ৬ ঘণ্টা ধরে অবরুদ্ধ

সোনালী লাইফের সাবেক চেয়ারম্যান মোস্তফা গোলাম কুদ্দুসের বিচারের দাবি বিআইএ
অর্থনলীতির ৩০ দিন ডেস্ক :

বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (আইডিআরএ) প্রধান কার্যালয়ে সংস্থাটির চেয়ারম্যান মোহাম্মদ জয়নুল বারী, চার সদস্য ও সব কর্মচারীকে অবরুদ্ধ করে রেখেছেন একটি বিমা কোম্পানির লোকজন। আজ মঙ্গলবার বিকেল চারটা থেকে এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত (রাত ১০টা) তাঁরা ৬ ঘণ্টা ধরে অবরুদ্ধ। আইডিআরএ সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, তার আগে আজ দুপুরে সংস্থাটিতে হামলার ঘটনাও ঘটেছে। হামলাকারীরা আইডিআরএর গেট ভেঙে ফেলেন। তারপর হামলাকারীরা কর্মকর্তা শামসুল আলম ও নিরাপত্তাকর্মী জাহানুর রহমানকে পিটিয়ে আহত করেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হামলাকারীদের পক্ষ থেকে সংস্থাটির চেয়ারম্যান মোহাম্মদ জয়নুল বারীর পদত্যাগ ও সোনালী লাইফ ইনস্যুরেন্স কোম্পানির প্রশাসক এস এম ফেরদৌসের পদত্যাগের দাবি করা হয়। খবর পেয়ে সেনাবাহিনীর কিছু কর্মকর্তা আইডিআরএ কার্যালয়ে এলেও কোনো সমাধান হয়নি।
যোগাযোগ করলে অর্থ ও বাণিজ্য উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ আজ রাত সোয়া ৯টায় বলেন, তিনি সচিব আবদুর রহমান খানের কাছ থেকে সব শুনেছেন। এখনই তিনি (উপদেষ্টা) ব্যবস্থা নিচ্ছেন।
হামলায় আহত আইডিআরএর নিরাপত্তাকর্মী জাহানুর রহমান হামলায় আহত আইডিআরএর নিরাপত্তাকর্মী জাহানুর রহমান আইডিআরএ
আইডিআরএ চেয়ারম্যান মোহাম্মদ জয়নুল বারী মুঠোফোনে বলেন, হামলাকারীরা অতর্কিত হামলা চালান। জোরপূর্বক কার্যালয়ে প্রবেশ করেন। প্রথমে তাঁরা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক পরিচয় দেন। পরে দেখা গেল, তাঁরা সমন্বয়ক নন; বরং সোনালী লাইফের কর্মী। রাত ১০ টায় তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘শুনেছি এক প্লাটুন পুলিশ আসছে। আমরা অপেক্ষায় আছি।’

বেশ কয়েক দিন ধরেই সোনালী লাইফের কর্মীরা আইডিআরএ কার্যালয়ের সামনে হট্টগোল করছিলেন। সূত্রগুলো জানায়, গতকাল সোমবার আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব আবদুর রহমানের সঙ্গে বৈঠক করে প্রশাসক বাতিলের ইতিবাচক ইঙ্গিত না পাওয়ার পরই মরিয়া হয়ে ওঠেন সোনালী লাইফের কর্মীরা।
জানতে চাইলে আবদুর রহমান খান প্রথম আলোকে বলেন, ‘হামলার কথা শুনেছি। কাজটি তারা ভালো করছে না। আর প্রশাসক নিয়োগ বা বাতিল আদালতের বিষয়।’
হামলার ঘটনার আগে বাংলাদেশ ইনস্যুরেন্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিআইএ) একটি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে আজ বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বৈঠক করেন আইডিআরএ চেয়ারম্যান ও তাঁর চার সদস্য। বিআইএর নেতারা আইডিআরএর পদক্ষেপের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে জানান, চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে একটি বিমা কোম্পানির কর্মীরা যা করছেন, তা নিন্দনীয়। তাঁরা বলেন, আইডিআরএ একটি রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান। এখানে একটি কোম্পানির কর্মকর্তারা যেসব দাবি নিয়ে আন্দোলন করছেন, তা অযৌক্তিক; কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
বিআইএর প্রথম সহসভাপতি নাসির উদ্দিন আহমেদ পাভেল বলেন, আইডিআরএ ও বিআইএ ভবিষ্যতে বিমা খাতে যেসব সমস্যা আছে, সেগুলো সমাধানে ও ভবিষ্যৎ উন্নয়নে একযোগে কাজ করবে। তিনি বলেন, একটি বিমা কোম্পানির লোকেরা সব বিমা কোম্পানির নাম দিয়ে আইডিআরএ কার্যালয়ে এসে বিভিন্ন ধরনের বিশৃঙ্খলা করার চেষ্টা করছেন।
হামলাকারীদের পেছনে সোনালী লাইফের সাবেক চেয়ারম্যান মোস্তফা গোলাম কুদ্দুস নেতৃত্ব দিচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে তাঁর সঙ্গে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি।
এদিকে সোনালী লাইফ ইনস্যুরেন্সের প্রধান কার্যালয়ের বঞ্চিত কিছু কর্মচারী আজ বিকেলে কোম্পানিটির সাবেক চেয়ারম্যান মোস্তফা গোলাম কুদ্দুসের বিচারের দাবিতে মানববন্ধন করেন।