কার স্বার্থে বীমা কোম্পানিগুলিকে বিভাজন? বিআইএ’র কাজটা কি?? স্বার্থ হাসিল নাকি সরকারকে প্রশ্নবিদ্ধ করা???(২য় পর্ব)


জাতির পিতার স্বপ্নের বাস্তবায়ন করা দেশের অর্থনীতিতে ভুমিকা রাখা বীমা কোম্পানিগুলিকে বিভাজন করে সুক্ষ কৌশল এবং সুতিক্ষ বুদ্ধিদীপ্ত অস্ত্রের মাধ্যমে রাষ্ট্রের উন্নয়নকে বাধাগ্রস্ত করে স্বীয় স্বার্থ হাসিল উন্নয়নমুখী বীমাখাতের উপর সুদুর প্রসারী প্রভাব ফেলবে বলে খাত সংশ্লিষ্ট অনেকে জানতে চান বিআইএ কার স্বার্থে এবং কিসের স্বার্থে কাজ করে?
খোন্দকার জিল্লুর রহমান :
জাতির পিতার স্বপ্নের বাস্তবায়ন করা একটা স্বাধীন দেশের উন্নয়নে বীমা কোম্পানির মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা(সিইও) নিয়োগ ও অপসারণ প্রবিধানমালায় বড় পরিবর্তন, শিক্ষাগত যোগ্যতার ফলাফলের সাথে কর্ম অভিজ্ঞতায়ও ছাড় দেয়া সেইসাথে বন্ধ করা হচ্ছে ইনক্রিমেন্ট-ইনসেনটিভের নামে অতিরিক্ত সুযোগ-সুবিধা প্রদানের পথ। কিন্তু কেন ?একজন সিইও কখনো বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ)‘র চাকুরি করেন না, আইডিআরএ হতে বেতনও গ্রহন করেন না। বিশেষ করে সিইওরা বীমা কোম্পানির (লাইফ এবং নন-লাইফ) চেয়ারম্যান এবং পরিচালনা বোর্ডকে ব্যবসা উন্নয়ন এবং লাভ দেখিয়ে তা থেকে বেতন গ্রহন করা ছাড়াও সরকারকে বিপুল পরিমান রাজস্ব প্রদানের মাধ্যমে দেশের জিডিপি উন্নয়নে বড় ভুমিকা পালন করে আসতেছে, একই সাথে স্বল্প শিক্ষিত থেকে উচ্ছ শিক্ষিত পর্যন্ত দেশের বিপুল সংখ্যক বেকার জনগোষ্টী তথা লক্ষ লক্ষ পরিবারের জীবন জীবিকার সংস্থান করে আসছে। যেখানে বীমা আইন বা প্রোবিধানমালা ২০১২তে যেগুলি করা হয়েছে সেগুলোকে যথাযথ প্রযোগ এবং বাস্তবায়নের ব্যবস্থা না করে আরো বেশ কিছু নতুন সংশোধনী এই প্রবিধানমালায় সংযোজন কার স্বার্থে এবং সুনির্দিষ্ট কারো অনৈতিক প্রভাবে স্বাধীনভাবে কাজ করা বীমা কোম্পানির সিইওদেরকে সুযোগ-সুবিধা বঞ্চিত করে প্রতিপক্ষ হিসাবে দাবিয়ে রাখার ব্যবস্থা করা হচ্ছে তা বীমা সংশ্লিষ্ট অনেকে জানতে চায়। যেখানে দীর্ঘ সময় বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ)‘র চেয়ারম্যান হিসাবে আসিন থাকা সাবেক চেয়ারম্যান ড: মোশারফ হোসেন (এফসিএ) বীমাখাতকে একটা শৃঙ্খলার মধ্যে আনানোর চেষ্টা করেও প্রভাব খাটানো দু-একজন বীমা কোম্পানির মালিকদের চাপের কাছে যিম্মি হয়ে কলঙ্কের বোঝা মাথায় নিয়ে চাকুরি থেকে অব্যাহুতি নিতে বাধ্য হয়েছেন। দেশের সুশিল সমাজ থেকে শুরু করে অর্থনৈতিক এবং বীমা সংশ্লিষ্ট বোদ্ধারা বর্তমান আইডিআরএ-কে নিয়ে কোন চাপের কাছে নতি সিকার করে অতিতের ঘটনার কোন পুনরাবৃত্বি ঘটাবেন না বলে আইডিআরএ‘র চেয়ারম্যান জয়নুল বারীর প্রতি দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
২৫ জানুয়ারি ২০২৩ এর মধ্যে মতামত জানানোর উল্লেখ করে বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের পরিচালক (আইন) মো. আব্দুল মজিদ স্বাক্ষরিত গত ২২জানুয়ারি ২০২৩ রোববার ইস্যুকৃত প্রবিধানমালার সংশোধিত খসড়া প্রজ্ঞাপনের বিষয়ে মতামত জানতে চেয়ে বীমা মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স এসোসিয়েশন (বিআইএ) এবং মুখ্য নির্বাহীদের সংগঠন বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স ফোরাম (বিআইএফ)’র কাছে চিঠি পাঠিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ)। ২৫ জানুয়ারির মধ্যে মতামত দেওয়া সম্বব না হওয়াতে তা বাড়িয়ে ২৯জানুয়ারি ২০২৩ করা হয় এবং ২৯ জানুয়ারি ২০২৩ রবিবার উভয় সংগঠনের সদস্য ও কর্মকর্তা বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ)‘র সাথে মতবিনিময় সভায় বসেন। উক্ত সভার আলোচনা অগ্রগতি বিষয়ে কেহ কোন মতামত প্রকাশ না করলেও বীমা মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স এসোসিয়েশন (বিআইএ)‘র স্বার্থন্বেষী কিছুকিছু কর্মকর্তাদের সম্মুখে নিজেদের কে নি:চুপ রাখেন বলে জানান। এদের মধ্যে দুএক জন নাম না বলার শর্তে বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স এসোসিয়েশন (বিআইএ)’র সুনির্দিষ্ট কারো কারো প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করে মালিক পক্ষের অনেকেই বলেন, বীমার স্বপ্নদ্রষ্টা জাতীর পিতার পরিবারের পরিচয়ে কিছু দুষ্টচক্র এখন একটা উন্নয়নমুখি সরকারের ভিতর আরেকটা অদৃশ্য সরকার তৈরি করে সরকারকে প্রশ্নবিদ্ধ করার মাধ্যমে দেশের জিডিপিতে অবদান রাখা বীমাখাতসহ বিভিন্ন খাতে অনিয়মের মাধ্যমে নিজেদের স্বর্গরাজ্য তৈরি করার নেশায় বিভোর হয়ে উঠেপড়ে লেগেছে। কথা বলার সময় অনেকের মধ্যথেকে একজনতো বলেই ফেলেন, বিআইএর কাজটা কি, নিজের স্বার্থের জন্য প্রধানমন্ত্রীর ত্রান তহবিলে প্রদানের নাম করে করে বিভিন্ন লাইফ এবং নন-লাইফ বীমা কোম্পনি থেকে মানভেদে ২ থেকে ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত চাঁদাবাজি করা আর নিজেদের কোম্পানিতে বীমা নিয়ন্ত্রন কর্তৃপক্ষ আইডিআরএ’র দেয় প্রায় ১৫% কমিশনের নিয়ম ভঙ্গকরে অতিরিক্ত কমিশনে ব্যবসা হাতিয়ে নেয়া, তাদের নিকট আইডিআরএও অসহায় বোধ করে। পরে নাম ঠিকানা, পরিচয় ও পদবি জানার জন্য বহু চেষ্টা করেও তাঁকে খুঁজে পাওয়া যায় নাই।
আইডিআরএ, বিআইএ ,বিআইএফ এবং বীমা শিল্পের সহযোগী সংস্থাগুলো যৌথ মতামতের ভিত্বিতে একযোগে কাজ করলে বীমা শিল্পের অনৈতিক কমিশন দুর করা সম্ভব, কারন বর্তমানে বীমা শিল্পে শিক্ষিত এবং ন্যায়-অন্যায় বোঝা লোকজন কাজ করেন। গত ২৪ নবেম্বর ২০২২ বরিশালে বীমামেলা ভার্চুয়ালি উদ্ভোদনকালে প্রধান অতিথি হিসাবে দেশে বীমা শিক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। একদিন নিজেদের বুকে হাত রেখে ওয়াদা করেছিলেন যারা অনৈতিক কাজ করবেন না, কিন্তু খুবই পরিতাপের বিষয়, তাদেরই কারো কারো কোম্পানি ৫০% বা আরো অধিক কমিশনের কাজটি বুঝে-শুনে করে যাচ্ছেন, যেন সরিষাতেই ভুত।
যেখানে ইন্স্যুরেন্স সেক্টরে বহুকিছু পরিপালন করা দরকার সেখানে দুএক জনের চাপের কাছে আইডিআরএ নতি সিকার করে পিছিয়ে থাকবে, তা কাম্য নয়। এমনিতেই মধ্যম আয়ের থেকে উন্নত আয়ের রোডম্যাপে অগ্রসরমান একটা দেশের অগ্রগতিতে অবদান রাখা সমুজ্জল বীমাখাতের কালো বিড়াল খ্যাত হাতে গোনা বর্তমানে লাইফ, নন-লাইফসহ বেশকিছু কোম্পানির চেয়ারম্যান ও পরিচালকদের বেপরোয়া দুর্নীতি ও বিদেশে অর্থ পাচারের কারনে (যা প্রমান নজরুল, খালেক, খালেক পুত্র এবং হেমায়েত গংরা) দেশের সম্ভাবনাময়ী বীমাখাত খাদের কিনারায় এসে দাড়িয়েছে, সরকার হারিয়েছে হাজার হাজার কোটি টাকা রাজস্ব। যেখানে দিনরাত অক্লান্ত পরিশ্রম করা একজন নির্ভীক প্রধানমন্ত্রী সেচ্ছা প্রনোদিত হয়ে দেশ ও জাতির পিতার অবদান রাখা বীমাখাতের সম্ভাবনা নিয়ে আপ্রান চেষ্টা করে যাচ্ছেন, সেখানে তাঁরই নিকটাত্মীয় পরিচয়ধারি কোন্ বর্গির কালোহাত দেশের বিভিন্ন উন্নয়মুখি খাতগুলিকে নিজস্ব স্বার্থে গ্রাস করতে উঠেপড়ে লেগেছে তা দেখার সময় এখন মাননীয় প্রধান মন্ত্রীর হাতের মুঠোয়।
প্রবিধানমালার খসড়া প্রজ্ঞাপন অনুসারে, মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা নিয়োগের শিক্ষাগত যোগ্যতা হবে- কোন স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কমপক্ষে ২য় শ্রেণীর স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রী অথবা চার বছর মেয়াদী স্নাতক বা সমমানের ডিগ্রীর অধিকারী। গ্রেডিং পদ্ধতির ফলাফলের ক্ষেত্রে সরকারি নীতিমালা প্রযোজ্য রেখে বিদেশী বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রীধারীদের বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন হতে সমতাকরণ সার্টিফিকেট দাখিল করার কথা উল্লেখ হয়েছে, যদিও ইতিপুর্বে মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা নিয়োগের ক্ষেত্রে ৩য় শ্রেণীর স্নাতক ডিগ্রীও গ্রহনযোগ্য ছিল, এবং স্নাতকের ফলাফলসহ বিদেশী বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রীর গ্রহণযোগ্যতার বিষয়েও কোন সীমা নির্ধারণ ছিল না।এখানে যে বিষয়টি বিশেষ ভাবে উল্লেখ করা যায় যে, দেশে সরকারি চাকুরিজীবির সংখ্যা জনসংখার তুলনায় প্রায় ০১% এরও কম। এক্ষেত্রে উল্লেখিত নুন্যতম যোগ্যতা নিয়ে প্রতিটা বিসিএস পরীক্ষায় কয়েক লক্ষ প্রার্থী অংশ গ্রহন করলেও শেষ পর্যায়ে কৃতকার্য করানো হয় কয়েক হাজার মাত্র। সরকারি আধা-সরকারি বাদ দিয়ে বাকি পুরো শিক্ষিত জনসংখ্যাই দেশের ব্যাংক, বীমা, শিল্প-কারখানা ব্যবসা প্রতিষ্ঠা ইত্যাদিতে চাকুরি ও কাজ কর্ম করে জীবিকা নির্বাহ করেন। বর্তমানে একটা বিষয় বিশেষ ভাবে উল্লেখযোগ্য যে, গত ১৫ বছর থেকে বর্তমান সরকারের আমলে শিক্ষীতের হার প্রচুর বাড়লেও সরকার সেহারে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে পারে নাই বলে কিছু কম গ্রেডিংএর ফলাফল অর্জনকৃত বহুমুখি মেধার অধিকারী প্রচুর সংখ্যক জনগোষ্টী বীমাখাতে কর্মসংস্থানের মাধ্যমে পরিবার চালিয়ে আসছে এবং দেশের জিডিপিতে অবদান রেখেছে, এখানে একটা ব্যপার প্রতিয়মান হয় যে, নুন্নতম ফলাফল যদি গ্রহনযোগ্য না হয় তাহলে দেশের বোর্ড পরিক্ষায় নুন্যতম ফলাফল উঠিয়ে দেয়া উচিত বলে অনেকে মতামত দেন। তারা বলেন, দুরদর্ষী এবং মেধাসম্পন্ন কাজের জন্য সার্টিফিকেটের ফলাফল কোন কাজে আসে না, তাহলে কাজী নজুরুল ইসলামের মেধা ও লেখার উপর রিসার্চ করে ডক্টরেট দেওয়া হত না।
এখানে বিশেষ ভাবে উল্লেখ যে, সুনির্দিষ্ট ২/৩টা কোম্পানির চেয়ারম্যান ও পরিচালকগন এবং বিআইএ,বিআইএফ এসোসিয়েসনের ব্যক্তি বিশেষ ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে নিজেদের অযোগ্য সন্তানদের অর্থ্যাৎ কোন একজনের পুত্র এবং কোন এক জনের কন্যাকে উল্লেখিত পদে আসিন করিয়ে সিইও নিয়োগ ক্ষেত্রে অপ্রাপ্ত বয়স এবং ২০১২ সালের মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা নিয়োগের প্রোবিধানমালাকে স্বীয়স্বার্থ কাজে লাগিয়ে সিইও নিয়োগ ও অপসারন প্রোবিধানমালার পরিবর্তন, কর্ম-অভিজ্ঞতায় ছাড় দেওয়া যুগ্ম সচিব পদে পেনসনভোগী অবসরপ্রাপ্ত কাজেরঅযোগ্য লোকেদের বীমা কোম্পানির সিইও পদে নিয়োগ প্রদান করে জাতির পিতার স্বপ্নের বীমাখাতকে শতবর্ষের ধ্বংসের দারপ্রান্তে নিয়ে যাওয়ার মত কলঙ্কিত কাজটি আইডিআর চেয়ারম্যান জয়নুল বারী করবেন বলে কেউ বিশ্বাস করেন না।

ধারাবাহিক চলবে…