
খোন্দকার জিল্লুর রহমান :
গত দশ বছরে ফারইস্ট লাইফে কয়েক হাজার কোটি টাকা লুটপাট হয়েছে। ইতিমধ্যে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন(বিএসইসি) এর স্পেশাল অডিট রিপের্টের সুত্র ধরে বিভিন্ন সংস্থার তদন্ত প্রতিবেদনে তা উঠে এসেছে। ফারইস্ট ইসলামী লাইফের হাজার হাজার বীমা গ্রাহককে খাদের কিনারায় রেখে ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি এখন প্রায় দেউলিয়া হওয়ার পথে, সেই সাথে ফারইস্ট লাইফের নজরুল-খালেক গংদের দুর্নীতির দ্বায় বহন করতে গিয়ে কোম্পানিটির বহুলোককে চাকুরি হারাতে হয়।
প্রথমত ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্সের লুটপাটের ঘটনায় সাবেক চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম ও এম এ খালেক উভয়ের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা, দ্বিতীয়ত আদালতের নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি অনলাইন এবং বিভিন্ন দৈনিকে প্রকাশিত হওয়ায় ফাইষ্টের শত মত বীমা-গ্রাহক পত্রিকা অফিসে ফোন করতে শুরু করায়, অনলাইন এবং দৈনিকে প্রকাশিত নিউজটির কথা জানতে পেরে গ্রাহকদের দৃষ্টি এড়াতে নিজেদের রক্ষার জন্য দুজনেই পর্দার অন্তরালে চলে যাওয়া, তৃতিয়ত মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা হিসাবে পদ্মা ইসলামী লাইফ ইনসুরেন্সকে বিরান ভুমি হিসাবে লাইফ সাপোর্টে রেখে আসা চৌধুরী মোহাম্মদ ওয়াসিউদ্দিন ফারইস্ট ইসলামী লাইফের মুখ্য নির্বাহী হিসেবে অনুমোদন পাবার জন্য এবং কর্তৃপক্ষের কাছে আর্জি দাখিলসহ নজরুল-খালেকের লুটপাটের ঘটনা এবং আদালতের নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি ধামাচাপা দেবার জন্যই নজরুল-খালেক গং তাদের সারির এবং তাদের মত করে যাতে কাজ করিয়ে নিতে পারে এমন একজন বিতর্কিত ও দুর্নীতি পরায়ন লোক চৌধুরী মোহাম্মদ ওয়াসিউদ্দিন কে মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা হিসাবে নিয়োগ দিয়ে বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ) এর সাথে অন্তর্বর্তি যোগাযোগ রক্ষা করাসহ সেইসাথে গোপনে নিজেরাও বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ)’র সাথে যোগাযোগ করে নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষকেও জনগনের নিকট চরমভাবে বিতর্কিত করা, চতুর্থত ২৩ কর্মকর্তা কর্মচারিদের পদাবনত করে ফারইষ্ট ইসলামি লাইফ ইন্স্যুরেন্সের সার্বিক অবস্থাকে টালমাটাল করে তোলা, এটা যেন একটা উন্নয়নমুখী দেশের লাইফ বীমা খাতকে চরম অনিশ্চয়তার দ্বারপ্রান্তে এনে দাড় করিয়েছে।
বাংলাদেশের চুয়ান্ন হাজার বর্গমাইলের মধ্যে তিরাশি কোম্পানিরর বীমা খাত…
অর্থ মন্ত্রনালয়ের নাই কোন মাথাব্যাথা, বেসামাল আইডিআরএ,জনগেনর মাথায় হাত…
ভিশন ৪১কে টার্গেটে রেখে ইতিহাসের আমরত্বের প্রতিক হিসাবে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু কণ্যা বীমা বান্ধব মাননীয় প্রধান মন্ত্রীর অপার সম্ভাবনাময়ী বাংলাদেশের অভাবনীয় উন্নয়ন অগ্রযাত্রার এই মুহুর্তে বীমা খাতটি একেবারেই ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়ে গেছে। অর্থ্যাৎ বীমাখাতটি অদক্ষ, অযোগ্য আর দূর্নীতিবাজদের দখলে চলে গেছে বললেও কম হবে, এবং এখানে চলছে দুর্নীতির এক মহা উৎসব।
সাধারণ বীমা কোম্পানিগুলির সর্বরকম দূর্নীতি ও অব্যবস্থাপনাকে প্রতিযোগিতায় পেছনে ফেলে জীবন বীমার শত কাহিনী অর্থনীতিবিধদের পাশাপাশি দেশের সাধারণ মানুষকে নির্বাক করে দিয়েছে। একদিকে যেমন লাইফবীমা কোম্পানীগুলির ব্রোকার বা এজেন্টরা সাধারন জনগনকে পুঙ্খানুপুঙ্খরুপে সবকিছু না বুঝিয়ে তাদেরকে বিভিন্ন রকম স্বপ্ন দেখিয়ে প্রিমিয়াম সংগ্রহ করেন, অপরদিকে সংগ্রহীত প্রিমিয়াম কোম্পানীর একাউন্টে জমা হওয়ার পর মালিকরা এটাকে নিজের বলে মনে করে যাচ্ছেতাই ব্যবহার করেন। একইসাথে সাথে মালিকদের জোগসাজসে কোম্পানীর উর্ধতন কর্মকর্তারাও সেই সুযোগের ফায়দা লুটে নেন।
ফারইস্ট ইসলামী লাইফের হেড অব অডিট মোঃ কামাল হোসেন হাওলাদার, জেইভিপি-১৩৬৫, এর সহযোগিতায় বান্ডারিয়া জোনের ইনচার্জ মিজানুর রহমান বাবু,এভিপি-৭৮৪,২০১১ সাল থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত এর অপকর্মের প্রমানে বুঝা যায় ফারইস্ট ইসলামী লাইফের কর্মকর্তাগন এহেন কোন দুর্নীতি নাই যা তারা করেন নাই। 

দাখিলকৃত বিবরন অনুযায়ী ২০১৬ সালের মার্চ মাসে প্রধান কার্যালয়ের নিরীক্ষা বিভাগের কর্মকর্তা শফিকুর রহমান,জেএসভিফি-৭৫, এবং রাশেদ আক্তার মাওলা,ভিফি-৮৪, ভান্ডারিয়া জোনাল অফিস পরীক্ষা করে ইনচার্জ মিজানুর রহমান বাবু, এভিপি-৭৮৪, এর বিপুল অপকর্মের প্রমান পান। অতিতেও ইনচার্জ মিজানুর রহমান বাবু, নিজের অপকর্ম ঢাকার জন্য ২০১৩ সালে নিরীক্ষক এবিএম রফিকুল ইসলাম,এভিপি- ৩৪৪৯কে, ২০১৪ সালে নিরীক্ষক একেএম জিল্লুর রহমান,এসইও-৩০৩ কে, এবং ২০১৫ সালে নিরীক্ষক রমিজ উদ্দিন,এসইও-৫১২২, কে অবৈধ প্রভাব খাটিয়ে অপমান করে অফিস থেকে বের করে দেন। প্রত্যেকবারই জোনাল ইনচার্জ এবং হেড অব অডিট মোঃ কামাল হোসেন হাওলাদারের জোগসাজসে সমস্থ অপকর্ম ও অর্থ আত্মসাতের বলয় তৈরি করে রেখেছিলেন, যা ২০১৬ সালে প্রধান কার্যালয়ের নিরীক্ষা বিভাগের কর্মকর্তা শফিকুর রহমান, জেএসভিপি-৭৫, এবং মোঃ রশেদ আক্তার মাওলা, ভিপি-৮৪, এর সঠিক তদন্তে ধরা পড়ে। তদন্তকালে হেড অব অডিট মোঃ কামাল হোসেন হাওলাদার নিজের ধরাপড়া অপকর্ম ঢাকার জন্য তদন্ত কর্মকর্তাদ্বয়কে জোনাল ইনচার্জ মিজানুর রহমান বাবুর উপর দোষ চাপানোর জন্য উঠেপড়ে চেষ্টা করেও ব্যার্থ হন। এমএ খালেকের প্রত্যয়ন করা প্রতিবেদন অনুযায়ী তার প্রমান দেখা যায় । (প্রতিবেদনের ও পরবর্তিতে হেড অব অডিটকে এসব অভিযোগ থেকে অব্যাহতি পত্রের স্কেন কপি তুলে দেওয়া হল)
এদিকে হেড অব অডিট মোঃ কামাল হোসেন হাওলাদার বিভিন্ন উপায়ে চেষ্টা করেও উক্ত প্রতিবেদন দাতা প্রবির কুমার বিশ্বাসকে ফারইস্ট ইসলামী লাইফ থেকে বরখাস্ত করতে না পারায় হেড অব অডিট মোঃ কামাল হোসেন হাওলাদারের এসব দুনীতির থলের বিড়াল বেরিয়ে আসে বলে প্রমানিত হয়। এখানে সবচেয়ে বড় বিষয় হল দীর্ঘ সময় থেকে অর্থ্যাৎ ২০১২ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত ফারইস্ট ইসলামী লাইফের লাইফ ফান্ড প্রায় শুণ্যের কোটায় আসার মহা দুর্নীতির সময়ের দুর্নীতির বরপুত্র উক্ত কোম্পানীর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ছিলেন মোঃ হেমায়েত উল্যাহ যিনি নজরুল-খালেক গং অপরাধী ও পাচারকাজে সহযোগিতার কারেন। ফারইস্ট ইসলামী লাইফ কোম্পানীর দুর্নীতির বরপুত্র সেই ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোঃ হেমায়েত উল্যাহ, ২০১২ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত নিজের এই মহা দুর্নীতির কারনে বিএসইসি কর্তৃক অপসারিত ও বহিস্কৃত হন এবং দুদকের মামলা মাথায় নিয়ে চলেছেন। এখানে বিশেষআবে উল্লেখ্য যে অপসারিত ও বহিস্কৃত ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোঃ হেমায়েত উল্যাহ, যিনি এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে ফারইস্ট ইসলামী লাইফের হেড অব অডিট মোঃ কামাল হোসেন হাওলাদারকে প্রধান কার্যালয়ের ২০১৬ সালে প্রধান কার্যালয়ের নিরীক্ষা বিভাগের কর্মকর্তা শফিকুর রহমান, জেএসভিপি-৭৫, এবং মোঃ রশেদ আক্তার মাওলা, ভিপি-৮৪, এর সঠিক তদন্তে ধরা পড়া সমস্থ অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দেন। অবস্থা দেখে মনে হয়, “এটা যেন তিন খুনের প্রমানিত অপরাধীকে তিন দিনের জেল দিয়ে অব্যাহতি দেওয়া, অর্থ্যাৎ গুরু অপরাধের লঘু দন্ড।” ফারইস্ট ইসলামী লাইফের ২০১২ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত লাইফ ফান্ড প্রায় শুণ্যের কোটায় আসার মহা দুর্নীতির সময়ে কোম্পানীর অডিট কমিটির চেয়ারম্যান ছিলেন ইন্স্যুরেন্স ডেভলাপমেন্ট এন্ড রেগুলেটরি অথোরেটি (আইডিআরএ) এর বর্তমান চেয়ারম্যান ড. মোশাররফ হোসেন, এফসিএ।
ফারইস্ট ইসলামী লাইফের সাবেক চেয়ারম্যান নজরুল ইসলামের নারী কেলেঙ্কারির ঘঠনাও সাধারন মানুষের বিবেককে হার মানিয়েছে, পিএস শরিফুল ইসলামকে সুযোগ সুবিদা দেয়ার মাধ্যমে ব্যবহার করে সুন্দর চেহারার অন্তরালে নারীখেকো নজরুল ইসলামের নিকৃষ্ট ও নষ্টালজিয়া থেকে দু-একজন নারী নিজেকে রক্ষাকরতে পারলেও লজ্জা এবং আত্মসন্মানের কারনে মুখ খুলতে না পারা বহু নারীর আর্তনাদ ফারইস্ট ইসলামী লাইফের আকাশ ভারি হয়ে উঠে বলেও প্রমান পাওয়া গিয়েছে। ফারইস্ট ইসলামী লাইফের সাবেক চেয়ারম্যান, প্রাইম এশিয়া ইউনিভার্সিটির বর্তমান চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম ও ভাইস চেয়ারম্যান রায়হান আজাদ টিটু এর নারী কেলেঙ্কারী নিয়ে তাদের সাথে যোগাযোগ করতে চাইলে চেয়ারম্যান নজরুল ইসলামের সেলফেন বন্ধ পাওয়া যায় এবং ভাইস চেয়ারম্যান রায়হান আজাদ টিটু এর সেলফোনে রিং হলেও তিনি রিসিভ করেন নাই। ফারইস্ট ইসলামী লাইফের সাবেক চেয়ারম্যান, প্রাইম এশিয়া ইউনিভার্সিটির বর্তমান চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম ও ভাইস চেয়ারম্যান রায়হান আজাদ টিটু এর নারী কেলেঙ্কারী নিয়ে বিস্তারিত প্রকাশের অপেক্ষায়। ধারাবাহিক ভাবে চলবে …..












