
সুলতান-উল-আবেদিন মোল্লা

তৎকালীন ব্রিটিশ আমলে ১৯০৭ সালে প্রথমে বঙ্গ প্রদেশে বীমার প্রচলন হয়। ১৯৩৮ সালে বীমা আইন প্রণীত হয়, যার আলোকে বীমা শিল্প পরিচালিত হতো। ব্রিটিশ-পরবর্তী সময়ে অর্থাৎ ১৯৪৭-৭০ সাল পর্যন্ত ৭৫টি বীমা কোম্পানি তদানীন্তন পূর্ব পাকিস্তানে বীমা ব্যবসায় লিপ্ত ছিল। তবে ওই কোম্পানিগুলোর কেবল শাখা অফিস ছিল এ অঞ্চলে। যার মধ্যে বিদেশী কোম্পানির শাখা ও পশ্চিম পাকিস্তানিদের মালিকানাধীন কোম্পানির শাখা ছিল। ওইসব কোম্পানির পরিচালনা পরিষদে বা সর্বোচ্চ পদে কোনো বাঙালি ছিলেন না। পূর্ব পাকিস্তান থেকে আহরিত বীমা প্রিমিয়ামের টাকা পশ্চিম পাকিস্তানে চলে যেত এবং ওই প্রিমিয়ামের টাকায় পশ্চিম পাকিস্তানের অবকাঠামো তৈরি হয়েছে কিন্তু বাংলাদেশের নয়। স্বাধীনতার পর যুদ্ধবিধ্বস্ত অর্থনীতি পুনর্গঠনের প্রয়োজনে বীমাসহ অন্যান্য খাত জাতীয়করণ করা হয়। ষাট ও সত্তরের দশকে বিশ্বের বহু দেশে, বিশেষ করে আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো, যেমন ব্যাংক ও বীমা কোম্পানিগুলো জাতীয়করণ করা হয় এবং সমাজতান্ত্রিক অর্থনীতি চালু করা হয়, যাতে কিছু লোকের কাছে দেশের অর্থ একত্রিত না হতে পারে। বঙ্গবন্ধুর জাতীয়করণ নীতি ওই সময়ের জন্য, বিশেষ করে নব্য স্বাধীন বাংলাদেশের জন্য একটি সময়োপযোগী পদক্ষেপ ছিল।
১৯৩৮ সালের বীমা আইন দীর্ঘ সময় অর্থাৎ ব্রিটিশ আমল, পাকিস্তান আমল ও বাংলাদেশ আমলের ২০১০ সাল পর্যন্ত বীমা শিল্পকে নিয়ন্ত্রণ করে আসছিল। বিভিন্ন সীমাবদ্ধতা, বীমা সম্পর্কে এ অঞ্চলের মানুষের জ্ঞান এবং বীমা সচেতনতা না থাকার কারণে বীমা শিল্প জাতীয় অর্থনীতিতে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখতে পারেনি। এজন্য অনেকেই পুরনো আইনকে দায়ী করছিলেন। বর্তমানে জনগণের সরকার অনুধাবন করল আইনটির পরিবর্তন দরকার এবং এ শিল্পের উন্নতি দরকার। শুধু নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে এ খাতের বিকাশ ঘটানো সম্ভব নয়। এরই মধ্যে উন্নত ও উন্নয়নশীল দেশগুলোতে বীমা শিল্পের বিকাশ ও নিয়ন্ত্রণের জন্য স্বতন্ত্র প্রতিষ্ঠান তৈরি হয়েছে। বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকার বীমা অধিদপ্তরকে বিলুপ্ত করেছে এবং তার যাত্রার দ্বিতীয় বছরই অর্থাৎ ২০১০ সালে ১২ ও ১৩ নং আইন মহান জাতীয় সংসদে পাস করেছে। বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ আইন-২০১০ ও বীমা আইন-২০১০। জাতীয় অর্থনীতিতে বীমার ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ—এ কথা সবর্জনবিদিত। পৃথিবীর অগ্রসরমাণ দেশগুলোতে জিডিপিতে বীমার অবদান উল্লেখযোগ্য। উদাহরণস্বরূপ যুক্তরাজ্যে এ খাতের অবদান ১১ দশমিক ৮ শতাংশ, ইউএসএ ৮ দশমিক ১, জাপান ৮ দশমিক ১, হংকং ১১ দশমিক ৪, ব্রাজিল ৩ দশমিক ২, চীন ৩, ভারত ৪ দশমিক ১ ও সিঙ্গাপুরে ৭ শতাংশ। অথচ এ অঞ্চলে বীমা ১০০ বছরের পুরনো ব্যবসা হওয়া সত্ত্বেও বাংলাদেশে জিডিপিতে বীমার অবদান মাত্র শূন্য দশমিক ৯ শতাংশ (লাইফ ইন্স্যুরেন্সের অবদান শূন্য দশমিক ৭ শতাংশ ও নন-লাইফ ইন্স্যুরেন্সের অবদান শূন্য দশমিক ২ শতাংশ)।
ওইসব দেশে বীমা ঘনত্ব (প্রিমিয়াম পার ক্যাপিটা) ইউকে ৪ হাজার ৫৩৫, ইউএসএ ৩ হাজার ৮৪৬, জাপান ৫ হাজার ১৬৯, হংকং ৩ দশমিক ৯০৪, ব্রাজিল ৩৯৮, চীন ১৬৩ ও ভারত ৫৯ ডলার, যেখানে বাংলাদেশে প্রতি হাজারে মাত্র সাতজনের লাইফ ইন্স্যুরেন্সের পলিসি রয়েছে। বীমার এ ‘পেনিট্রেশন’ অর্থাৎ জিডিপিতে এর অবদান ও ঘনত্ব দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মধ্যে বাংলাদেশের সবচেয়ে কম।
বাংলাদেশে বর্তমানে ৭৮টি বীমা কোম্পানি কাজ করছে, যার মধ্যে লাইফ কোম্পানি ৩২টি এবং নন-লাইফ কোম্পানি ৪৬টি। এই ৭৮টি কোম্পানির মধ্যে সরকারি মালিকানাধীন জীবন বীমা করপোরেশন এবং সাধারণ বীমা করপোরেশন এবং বিদেশী কোম্পানির মেটলাইফ আলিকোর শাখা অফিস কাজ করছে। বিদেশের সঙ্গে যৌথ মালিকানা অর্থাৎ জয়েন্ট ভেঞ্চার কোম্পানি হিসেবে সম্প্রতি এলআইসি বাংলাদেশ লিমিটেড কার্যক্রম শুরু করেছে।
শুধু নিয়ন্ত্রণের ভূমিকা বাদ দিয়ে একই সঙ্গে নিয়ন্ত্রণ ও উন্নয়নের ধারণা পুঞ্জীভূত করে বীমা শিল্প ব্যবসার তত্ত্বাবধান, বীমা পলিসি গ্রাহক ও পলিসির অধীনে উপকারভোগীদের স্বার্থ সংরক্ষণ এবং বীমা শিল্পের নিয়মতান্ত্রিক উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণের নিমিত্ত একটি কর্তৃপক্ষ প্রতিষ্ঠার জন্য বিধান করা সমীচীন ও প্রয়োজনীয় বিধায় একটি আইন প্রণয়ন করা হয়, যা বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ আইন-২০১০ নামে অভিহিত।
বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ যাত্রা শুরু করে ২০১১ সালের জানুয়ারিতে। সে অনুযায়ী কর্তৃপক্ষের বয়স ১০ বছর চলছে। বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের ২২টি দায়িত্ব ও কার্যাবলির মধ্যে প্রধান দুটি দায়িত্ব হচ্ছে:
ক) বীমা ও পুনঃবীমা ব্যবসাসংক্রান্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর নিয়ন্ত্রণ এবং
খ) বাংলাদেশের বীমা শিল্পের উন্নয়নে উৎসাহ প্রদান এবং এ শিল্পের উন্নয়নসংক্রান্ত সব বিষয়ে সরকারকে পরামর্শ প্রদান।
বীমার পেনিট্রেশন বৃদ্ধি ও ঘনত্ব বৃদ্ধিসহ বীমা শিল্পের উন্নয়নে কর্তৃপক্ষ গত নয় বছরে তেমন কোনো উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখতে পারেনি। বিলুপ্ত বীমা অধিদপ্তর যেমন শুধুই এ খাতকে নিয়ন্ত্রণ করত এবং স্বল্প পরিসরে এর কার্যক্রম চালাত, সে রকম ভাবে কর্তৃপক্ষও নিয়ন্ত্রণসংক্রান্ত কার্যক্রমে গত নয় বছর অতিবাহিত করেছে। এখন পর্যন্ত কর্তৃপক্ষের নিজস্ব জনবল নিয়োগ না হওয়ার কারণে কর্তৃপক্ষে বীমা শিল্প নিয়ন্ত্রণ ও এর উন্নয়নে পেশাদারিত্ব সৃষ্টি হয়নি। কিছু এডহক-ভিত্তিক কর্মকর্তা/কর্মচারী নিয়োগ ও ডেপুটেশনের মাধ্যমে প্রশাসন ক্যাডারের কিছু কর্মকর্তা এটি নিয়ন্ত্রণ করেছেন। যাদের কর্তৃপক্ষে চাকরিকাল অনিশ্চিত এবং যার কারণে বীমা সম্পর্কে যেসব প্রশিক্ষণ তারা নিচ্ছেন, তা কর্তৃপক্ষের ভবিষ্যতে কোনো কাজে আসবে না। যেহেতু তারা কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তা নন, তাই তাদের কাজের জবাবদিহিতাও সীমিত।
বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক জাতীয় বীমা নীতি ২০১৪ সালে অনুমোদিত হয়েছে। বাংলাদেশের বীমা শিল্পে চিহ্নিত দক্ষ সমস্যা এবং সমস্যাগুলো সমাধানের জন্য প্রধান প্রতিপালনীয় বিষয়গুলো বীমা নীতিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। বীমা নীতি বাস্তবায়ন কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নে যথাক্রমে স্বল্পমেয়াদ ২০১৪-১৫, মধ্যমেয়াদ ২০১৬-১৭ ও দীর্ঘমেয়াদ ২০১৮-২১, এভাবে ভাগ করা হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত বীমা নীতি বাস্তবায়নে কোনো পদক্ষেপই নেয়া হয়নি, যদিও স্বল্প ও মধ্যমেয়াদ শেষ হয়েছে এবং এ বীমা নীতির কর্মপরিকল্পনার বেশির ভাগ বাস্তবায়ন এ দুই মেয়াদেই শেষ করার প্রস্তাব ছিল।
সময় অনুযায়ী আগামী বছর বীমা নীতির পরিকল্পনা সময় শেষ হবে, যদিও বাস্তবায়ন হয়নি। অতএব, পুনরায় বীমা নীতি বাস্তবায়নের সময়সীমা নির্ধারণ করতে হবে এ শিল্পের উন্নয়নের জন্য।
জাতীয় বীমা নীতির উদ্দেশ্য ছিল নিম্নরূপ: সার্বিকভাবে বীমা নীতির উদ্দেশ্য হলো, গতানুগতিক ধারা থেকে বীমা শিল্পকে বের করে যুগোপযোগী নিয়মতান্ত্রিক ধারায় চালিত করার প্রয়াসে সুষ্ঠু নীতিগত কাঠামোয় আনয়ন করে বীমাকারীর স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত, আর্থিক শৃঙ্খলা বজায়, বীমা শিল্পে পেশাদারিত্ব সৃষ্টি এবং অনিয়ম, অব্যবস্থাপনা, দুর্নীতি প্রতিরোধ করে বীমা খাতকে সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা ও নিয়ন্ত্রণে সময়োপযোগী দিকনির্দেশনার মাধ্যমে দেশের সব স্তরের মানুষকে তথা সরকারি-বেসরকারি সম্পত্তিকে বীমার আওতায় নিয়ে এসে বীমা সেবা সহজপ্রাপ্য ও বিস্তৃত করে অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নে বীমার সুফল নিশ্চিত করা এবং ২০২১ সালের মধ্যে জিডিপিতে বীমা খাতে অবদান উল্লেখযোগ্য হারে (সম্ভাব্য ৪ শতাংশ) উন্নীত করা।
জাতীয় বীমা নীতিতে বীমা পেনিট্রেশনের শতকরা হার নির্ধারণ অতি উচ্চমাত্রায় করা হয়েছে। বর্তমানে এ শিল্পের যে অবস্থা, তাতে এ হার বাস্তবায়ন একেবারেই অসম্ভব।
বাংলাদেশের বীমাবাজার: বাংলাদেশের বীমা সম্পদের পরিমাণ বর্তমানে ৫২ হাজার কোটি টাকার কিছু বেশি। এর মধ্যে ৪০ দশমিক ৫০ হাজার কোটি টাকা লাইফ বীমা কোম্পানির এবং ১১ দশমিক ৫০ হাজার কোটি টাকা নন-লাইফ বীমা কোম্পানির। মোট ৭৮টি বীমা কোম্পানির মধ্যে ৩২টি লাইফ বীমা কোম্পানি ও ৪৬টি নন-লাইফ বীমা কোম্পানি। ২০১৮-১৯ সালে বাংলাদেশে জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার ৮ দশমিক ১৩ শতাংশ এবং জিএনআই ১ হাজার ৯০৯ মার্কিন ডলারে উন্নীত হয়েছে। সে তুলনায় বাংলাদেশের বীমা বাজার স্থূল ও তাত্পর্যপূর্ণ নয়। লাইফ বীমা থেকে প্রতি বছর প্রথম ও নবায়ন প্রিমিয়াম হিসেবে ৯-১০ হাজার কোটি টাকার প্রিমিয়ার আয় হয়, পক্ষান্তরে নন-লাইফ বীমা থেকে প্রতি বছর ৩-৪ হাজার কোটি টাকার প্রিমিয়াম আসে।
বাংলাদেশের বীমাবাজারের প্রধান সমস্যাগুলো :
ক) বীমার প্রতি জনগণের আস্থা ও সচেতনতার দারুণ অভাব;
খ) বীমাবাজার সম্প্রসারিত নয়;
গ) উন্নত বীমাবাজারের সঙ্গে বাংলাদেশের বীমাবাজারের মৌলিক পার্থক্য রয়েছে;
ঘ) কোম্পানিগুলোর মধ্যে সুশাসন ও শৃঙ্খলা নেই;
ঙ) আন্তর্জাতিক মানের বীমা প্রডাক্ট নেই;
চ) নিয়ন্ত্রক সংস্থার সঙ্গে বীমা কোম্পানির সুসম্পর্কের অভাব;
ছ) কোম্পানিগুলো বীমা দাবি মেটাতে অনীহা ও কালক্ষেপণ করে;
জ) নিয়ন্ত্রক সংস্থায় প্রশিক্ষিত ও দক্ষ জনবলের অভাব;
ঝ) বীমা শিল্পে দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি হচ্ছে না; এবং
ঞ) বীমা প্রেনিট্রেশন ও ঘনত্ব কম।
রূপকল্প : বাংলাদেশের প্রতিটি মানুষের জীবন ও সম্পদকে বীমার আওতায় নিয়ে আসা। বীমা পলিসি গ্রহণের মাধ্যমে প্রতিটি মানুষের অর্থনৈতিক নিরাপত্তা বিধান করা। বাংলাদেশের বীমাবাজার সম্প্রসারণ করার মাধ্যমে বীমা ‘প্রেনিট্রেশন ২০২৪ সালের মধ্যে ২ দশমিক ৫ শতাংশে উন্নীত করা।
মিশন : বাংলাদেশের বীমাবাজার আন্তর্জাতিক মানের উন্নত বীমাবাজারে পরিণত করা! ধাপে ধাপে দেশের সম্পদ ও জীবনের ঝুঁকি বীমার আওতায় এনে তার সুফল পাওয়া নিশ্চিত করা।
কর্মপরিকল্পনা : স্বল্প আয়ের লোকরা আর্থিকভাবে দুর্বল থাকে তাদের জীবন ও সম্পদের ঝুঁকি বহনে। বীমার মাধ্যমে ওইসব দরিদ্র লোকদের রক্ষা করা যেতে পারে। সমুদয় বীমা প্রচলনের মাধ্যমে স্বল্প আয়ের লোকদের অর্থনৈতিক আস্থা অর্জনে তাদের আর্থিক দুর্বলতা লাঘব করা যেতে পারে। সমুদয় বীমা এক আন্তর্জাতিক মানের বীমা ধারণা। এটি পূর্ববর্তী ক্ষুদ্র বীমা ধারণা থেকে আরো ফলদায়ক ও কার্যকর বীমা প্রকল্প হিসেবে সারা পৃথিবীতে বিকাশ লাভ করছে। একটি বীমা পলিসি ক্রয়ের মাধ্যমে একজন ব্যক্তি ও তার পরিবার জীবন, স্বাস্থ্য, সম্পদ ও বিনিয়োগের ঝুঁকি হ্রাসের নিশ্চয়তা পেয়ে থাকে। বাংলাদেশে ক্ষুদ্রঋণের প্রচলন আছে এবং এটি সারা দেশে ব্যাপকভাবে প্রতিষ্ঠা লাভ করেছে। তবে ক্ষুদ্রঋণ এককভাবে দারিদ্র্য বিমোচন করতে পারে না। ক্ষুদ্রঋণের সুদের হার ব্যাপক এবং এটা চক্রবৃদ্ধি হারে বৃদ্ধি পাওয়ায় কোনো ক্ষুদ্রঋণ গ্রহীতা আর্থিক সচ্ছলতা অর্জন করতে পারেননি। বরং দরিদ্র ব্যক্তি দরিদ্রই থেকে যায়, কারণ ক্ষুদ্রঋণের বিপরীতে কোনো ঝুঁকি বহন করা হয় না। বাংলাদেশ দুর্যোগকবলিত একটি দেশ। এখানে ঝড়, বন্যা, জলোচ্ছ্বাস, খরা প্রতিনিয়ত লেগে থাকে। মানুষের স্বাস্থ্যগত ঝুঁকিও অনেক। প্রতি বছর দুর্ঘটনায় অনেক লোক মারা যায়। ক্ষুদ্রঋণ গ্রহীতা কোনো ব্যক্তি কোনো দুর্ঘটনায় অঙ্গহানি হলে বা মারা গেলে অথবা তার সামান্যতম সম্পদ কোনো দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত হলে তার ঋণ মওকুফ হয় না। ফলে ক্ষুদ্রঋণ গ্রহীতা সমূহ বিপদের সম্মুখীন হয় এবং ঋণের বোঝার কারণে আরো দরিদ্র হয়ে পড়ে। সমুদয় বীমা এসব ঝুঁকি থেকে ক্ষুদ্রঋণ গ্রহীতাকে রক্ষা করতে পারে। ক্ষুদ্রঋণ মানুষকে সঞ্চয় করার ক্ষমতা বৃদ্ধি করে না। বরং সমুদয় বীমা মানুষকে সঞ্চয়ী হতে সাহায্য করে। সুতরাং প্রতিটি ক্ষুদ্রঋণ গ্রহীতাকে সমুদয় বীমার আওতায় আনতে হবে তার সমূহ ঝুঁকি মোকাবেলা করে আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হওয়ার জন্য। সমুদয় বীমা পরিকল্প বাংলাদেশে প্রচলন নেই। বীমা নামে কিছু পলিসি প্রচলিত আছে। সমুদয় বীমা চালু করতে হলে বর্তমান বীমা আইনের কিছুটা সংশোধন প্রয়োজন হবে।
লেখক : সাবেক সদস্য, ইন্স্যুরেন্স ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড রেগুলেটরি অথরিটি (আইডিআরএ)
একাডেমিক অব লার্নিংয়ের ব্যবস্থাপনা পরিচালক
বণিক বার্তার সৌজন্যে












