“ব্যবস্থাপনা পরিচালকদের স্থায়ীর চেয়ে সিসি তেই পছন্দ বেশী আইডিআরএ এর”

খোন্দকার জিল্লুর রহমান:
একটা দেশের আর্থিক মেরুদন্ড বা চালিকা শক্তি সেদেশের ব্যাংক বীমা ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান। ব্যাংকগুলির অবিভাবক হিসাবে কাজ করে বাংলাদেশ ব্যাংক ঠিক একইভাবে বীমা কোম্পানীগুলির অবিভাবক হিসাবে কাজ করে ইন্স্যুরেন্স ডেভলাপমেন্ট এন্ড রেগুলেটরি অথোরেটি (আইডিআরএ)। আর এই বীমা খাতের অবিভাবক হিসাবে ইন্স্যুরেন্স ডেভলাপমেন্ট এন্ড রেগুলেটরি অথোরেটি (আইডিআরএ) কতটুকু দায়িত্বশীল তা প্রশ্নবিদ্ব? এটাকে ধরে রাখতে হলে তার জন্য দরকার আইনের সুুষ্ঠ প্রয়োগ এবং সঠিক প্রশাসনিক অবকাঠামো। এই অবকাঠামো যখন দুর্বল হয়ে যায় তখন প্রশাসনিক ব্যবস্থা ভেঙে পড়ে। এর সবটুকুর জন্য দায়ী প্রশাসনিক পদে যারা যারা আছেন তাদের কর্ম কৌশল, দক্ষতা, যোগ্যতা ও প্রশাসনিক দূরদর্শিতা। এর কোনটার ব্যত্যয় ঘটলে কোন অবস্থাতেই এসব প্রতিষ্ঠানকে টিকিয়ে রাখা যবে না। আর এসব প্রতিষ্ঠানের প্রশাসনিক পদের লোকেরা যদি দুর্নীতি ও লোভের স্বীকার হয় তাইলে স্বয়ং সৃষ্টিকর্তাও এসব প্রতিষ্ঠানকে টিকিয়ে রাখতে পারবে কিনা সন্দেহ।

বিভিন্ন পত্রিকার সূত্র অনুযায়ী গত ১০/১২ বছরে বীমা খ্যাতের অব্যবস্থাপনা, লুটপাট এবং হযবরল চিত্র, বিশেষ করে নন-লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোপানীগুলির ছেয়ে লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোপানীগুলির কর্মকর্তারা বেশি এগেিয় আছে, এটা লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোপানীগুলির কর্মকর্তাদের অবস্থা থেকে এর প্রমাণ পাওয়া যায়। আর বর্তমানে বীমা খাতের অভিভাবক হিসাবে আডিআরএ কতটুকু দায়িত্বশীল তা নিয়ে বিভিন্ন মহলে বিভিন্ন কর্মকান্ডের মধ্য দিয়ে তার প্রমান পাওয়া যায়। বিশেষ করে লেজুড়বিত্তি, অযোগ্যতা, অদক্ষতা, ক্ষমতা ও রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতাসহ বড় বড় পদ সংশ্লিষ্ট ব্যাক্তিগন এবং নিয়ন্ত্রনকারী সংস্থার প্রধানদের কারন-ই বীমা খাতে এ অবস্থার জন্য দায়ী বলে অনেকে মতামত দেন। কেহ কেহ বলেন, সরকারের জবাব দিহিতা না থাকার কারনে নিয়ন্ত্রনকারী সংস্থার প্রধানরা নিজেদের মধ্যে কৌশলে আরেকটি অদৃশ্য সিন্ডিকেট তৈরি করে নিজেদের রামরাজ্য প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ হচ্ছেন। অনেক সময় এদের কাউকে কাউকে চিহ্নিত করা গেলেও অদৃশ্য শক্তির কারণে এরা থাকে ধরাছোঁয়ার বাইরে। যখন যে সরকার ক্ষমতায় থাকে, সুযোগ সন্ধানীরা তখন সুকৌশলে সেই সরকারের ভেতরে ঢুকে রাষ্ট্রের চলমান অর্থনীতি ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত করে নিজেরা স্বার্থ হাসিলে তৎপর হয়ে ওঠে, এদের অবস্থান খুবই শক্ত। যা একটা উন্নয়নমুখী রাষ্ট্রের জন্য ক্ষতিকর হয়ে দাঁড়ায়। সরকারও নাকি এদের থেকে সুযোগ সুবিধা (আর্থিক ও রাজনৈতিক) আদায় করে থাকে, যার ফলে সরকার প্রকৃত অপরাধীদের বের করে শাস্তির আওতায় আনতে পারে না।
সম্প্রতি আডিআরএ এর ভুমিকা নিয়ে অনেকে প্রশ্ন তুলেছেন। আডিআরএ তে নাকি ঘুষ, দুনীতি,লুটপাট আর অনৈতিক, এবং অযোগ্য লোকের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিনত হয়েছে। তা তাদের বিভিন্ন কার্যক্রমের মধ্যে প্রমান পাওয়া যায়। যে কারনে ইন্স্যুরেন্স ডেভলাপমেন্ট এন্ড রেগুলেটরি অথোরেটি (আইডিআরএ) এর প্রধান কর্মকর্তা (চেয়ারম্যান) ড; এম: মোশাররফ হোসেন, তিনি নাকি নিজের প্রশাসনিক যোগ্যতা এবং আইনগত দিক ভুলে গিয়ে কিছু পরাশক্তির উপদেশে ইন্স্যুরেন্স কোম্পানীর ব্যাবস্থাপনা পরিচালকদের সাথে সখ্যতার মাঝে নিজস¦ সুবিধা আদায়ের মধ্যদিয়ে আইনগত ভাবে স্থায়ী পদের পরিবর্তে চলতি দায়ীত্ব (সিসি) পদে রাখতেই বেশি পছন্দ করেন বলে বিভিন্ন মহলে আলোচনার ঝড় উঠে।
উল্লেখ্য, বীমা আইন ২০১০ এর ৮০(৪) উপধারায় বলা হয়েছে, বীমা কোম্পানীর মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তার পদ একাধারে ৩ (তিন) মাসের অধিক সময়ের জন্য শূন্য রাখা যাইবে না। তবে শর্ত থাকে যে, কর্তৃপক্ষ অপরিহার্য পরিস্থিতি বিবেচনায় উক্ত সময় সীমা আরো ৩ (তিন) মাস বর্ধিত করিতে পারিবে৷ আবার (৫) উপ-ধারা (৪)অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কোন বীমা কোম্পানীর মূখ্য নির্বাহী কর্মকর্তার পদ পূরণ করা না হইলে কর্তৃপক্ষ কোম্পানীর মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তার দায়িত্ব পালনের জন্য একজন প্রশাসক নিয়োগ করিতে পারিবে এবং কর্তৃপক্ষ যেইরূপ নির্ধারণ করিবে কোম্পানী তদানুযায়ী উক্ত প্রশাসকের বেতন ও অন্যান্য সুবিধাদির যাবতীয় ব্যয় নির্বাহ করিতে বাধ্য থাকিবে বলে জানায়৷
প্রকৃত ভাবে তার প্রমান পাওয়া যায়, বর্তমানে লাইফ এবং নন-লাইফ মিলিয়ে সতেরটি ইন্স্যুরেন্স কোম্পানীর ব্যাবস্থাপনা পরিচালকের পদে ব্যবস্থাপনা পরিচালকগন চলতি দায়ীত্ব(সিসি)তে আসিন আছেন, যার মধ্যে অনেকের চলতি দায়ীত্বের মেয়াদ ৫বছরেরও বেশি ছাড়িয়ে গিয়েছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে ইন্স্যুরেন্স কোম্পানীর সিনিয়র এক কর্মকর্তা মুখ ফস্কে বলেই ফেলেন, তিনি নাকি ১০টাকা লাভের সুযোগ পেলেও ছাড়তে ভুল করেন না। বেশ কিছু কোম্পানীর মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তার মতামতে ইন্স্যুরেন্স ডেভলাপমেন্ট এন্ড রেগুলেটরি অথোরেটি (আইডিআরএ) এর প্রধান কর্মকর্তা (চেয়ারম্যান) ড; এম: মোশাররফ হোসেনের ব্যাপারে উক্ত পদের অনপোযুক্ত এবং অযোগ্যতার বিষয়টি সামনে আসে, যা একজন প্রশাসকের জন্য প্রকৃতভাবে কাম্য নয়। ধারাবাহিক ভাবে চলবে…….